শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২০, ০৩:৩৯ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম:
নীলফামারী জেলা পুলিশের আয়োজনে জনগণের প্রত্যাশা ও ট্রাফিক পুলিশের করণীয় শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রোটারেক্ট ক্লাব অফ হবিগঞ্জ খোয়াইয়ের উদ্যোগে হবিগঞ্জ অাধুনিক সদর হাসপাতালে অক্সিজেন সিলিন্ডার প্রদান নবীগঞ্জের সিমান্তবর্তী জগন্নাতপুরের কামরাখাই কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের কাজ স্থগিত পাবনায় মোটরসাইকেল ও ট্রলি মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১ নবীগঞ্জে ১৪ মামলার আসামী ডাকাত সর্দার গ্রেফতার মৌলভীবাজারে ইডাফ মানবাধিকার সংস্থার জেলা আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন সিনিয়র সাংবাদিক জাহের মিয়া ফকির আর নেই মাধবপুর প্রেসক্লাবের শোক সৈয়দপুরে মাদক ব্যবসায়ী জঞ্জালু ২শ’ গ্রাম গাঁজাসহ গ্রেফতার সৈয়দপুরে পৌর মেয়রের উদ্যোগে মসজিদে ২ লাখ টাকা ও ১০টি সিলিং ফ্যান প্রদান হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে ১৪টি ডাকাতি মামলার পলাতক আসামী পুলিশের খাঁচায় বন্ধি
জয়পুরহাটে অরক্ষিত রেলপথ, ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন

জয়পুরহাটে অরক্ষিত রেলপথ, ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন

ফাইল ছবি

পশ্চিমাঞ্চল রেলের বগুড়ার সান্তাহার জংশন থেকে দিনাজপুরের বিরামপুর পর্যন্ত ৬৪ কিলোমিটার রেলপথে লেভেল ক্রসিং রয়েছে ১০৯টি। এর মধ্যে ৯৬টিতেই গেটম্যান নেই। ঝুঁকিপূর্ণ এসব লেভেল ক্রসিংয়ে গত ১১ বছরে নানা দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ৬৫ জন নিহত হলেও গেট নির্মাণ অথবা নিয়োগ দেওয়া হয়নি কোনও গেটম্যান। তবে কর্তৃপক্ষের দাবি, অরক্ষিত গেটগুলোর বিষয়ে রিপোর্ট দেওয়ার প্রেক্ষিতে চলতি মাসে গেটম্যান নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অস্থায়ী গেটম্যানদের দায়ের করা মামলার কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া আপাতত বন্ধ আছে।

রেল বিভাগ সূত্র জানায়, পশ্চিমাঞ্চল রেলের বগুড়ার সান্তাহার জংশন থেকে দিনাজপুরের বিরামপুর পর্যন্ত ৬৪ কিলোমিটার রেলপথে লেভেল ক্রসিং রয়েছে ১০৯টি। যার মধ্যে জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম স্টেশন থেকে পাঁচবিবির আটাপাড়া পর্যন্ত ৪৭ কিলোমিটারে লেভেল ক্রসিং রয়েছে ২৩টি। যার ১২টিতেই গেটম্যান নেই। গেটম্যানবিহীন লেভেল ক্রসিংগুলো হলো-জয়পুরহাট শহরের অদূরে কাশিয়াবাড়ি (ই-৮৩), জয়পুরহাট-পাঁচবিবি সড়কের পুরানাপৈল (ই-৮৫),পাঁচবিবি টেক্সটাইল মিল (ই-৮৭),পাঁচবিবি সদরের ই-৯১, ই-৯২ ও ই-৯৩, সদর উপজেলার নারায়ণপাড়া, সাহাপুর, শহরের ডাকবাংলো-চিনিকল সড়কের ক্রসিং, আক্কেলপুরের আমুট্ট রেলক্রসিং, কানুপুর ও পাঁচবিবির ইউএনও অফিস সংলগ্ন ক্রসিং।

সূত্রটি আরও জানায়, সান্তাহার-বিরামপুর রেলপথে এমন ছয়টি লেভেল ক্রসিং রয়েছে। যা নির্মাণে রেল বিভাগ থেকে কোনও অনুমোদন নেওয়া হয়নি। অনুমোদনবিহীন ওই ছয়টি লেভেল ক্রসিংয়ের বিষয়ে পৃথক মামলাও করা হয়েছে।

জানা গেছে, জয়পুরহাট-নওগাঁ সড়কের আক্কেলপুর রেলস্টেশনের উত্তর পাশে আমুট্ট রেলক্রসিংয়ে ২০০৬ সালের ১১ জুলাই ট্রেনের সঙ্গে যাত্রীবাহী একটি বাসের ধাক্কা লাগলে ৪০ জন যাত্রী নিহত ও ৩৮ জন আহত হন। সে সময় গঠিত তদন্ত কমিটি দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে রেলক্রসিংটি সুরক্ষিত না থাকা এবং বাস চালকের দায়িত্বহীনতাকে চিহ্নিত করে। ওই ঘটনার তিন বছর পর ২০০৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি জয়পুরহাট শহরের অদূরে কাশিয়াবাড়ি রেলক্রসিংয়ে ট্রেন-ট্রাক সংঘর্ষে ৯ জন নিহত ও ১৭ জন আহত হন। জেলার ওই বড় দুটি দুর্ঘটনায় ৪৯ জন নিহত হলেও শুধুমাত্র আমুট্ট লেভেল ক্রসিংয়ে গেট নির্মাণের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয় যা বর্তমানে নির্মাণাধীন। আর কাশিয়াবাড়ি রেল ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনার বিষয়ে সে সময়ের তদন্ত কমিটির প্রধান তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সিতারা বেগম দুর্ঘটনায় ৭টি কারণ চিহ্নিত করে দুর্ঘটনা রোধে ১৪টি সুপারিশমালা সহকারে তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করেন। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো জয়পুরহাট জেলার ৪৭ কিলোমিটার রেলপথের ২৩টি লেভেল ক্রসিংয়ের মধ্যে অরক্ষিত ও ঝুঁকিপূর্ণ ১২টি লেভেল ক্রসিংয়ে গেট নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ, রেলওয়ে ও সুগারমিলের সমন্বয়ে রেলগেটের সুরক্ষার ব্যবস্থা করা এবং রেলওয়ে থেকে গেটম্যান নিশ্চিত করা। তা না হওয়া পর্যন্ত ক্রসিংয়ে স্থানীয় প্রশাসন অথবা বাস ট্রাক মালিকদের পক্ষ থেকে দুজন গেটম্যান নিয়োগ, ক্রসিং এলাকায় পৌঁছার আগে থেকেই ট্রেনের হুইসেল নিশ্চিত করা, সুগার মিলের পক্ষ থেকে স্পিডব্রেকার নির্মাণের ব্যবস্থা করা এবং ট্রাফিক সিগন্যাল ও সতর্কতামূলক বোর্ড বসানো। কিন্তু ওই ঘটনার দীর্ঘ প্রায় ৯ বছর পরও ওই লেভেল ক্রসিংয়ে কোনও স্থায়ী গেটম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

রেল কর্তৃপক্ষ লেভেল ক্রসিংয়ের দুই পাশে ‘সাবধান এই লেভেল ক্রসিংয়ে গেটম্যান নাই, নিজ দায়িত্বে এবং সাবধানে এই লেভেল ক্রসিং পার হইবেন’ লিখা দুটি সাইনবোর্ড টানিয়ে তাদের দায়িত্ব শেষ করেছেন। সুগারমিল কর্তৃপক্ষ সড়কটি পাকা করে উভয় পাশে স্পিডব্রেকার নির্মাণ করলেও গেটম্যান নিয়োগের ব্যাপারে কোনও সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়নি।

এ প্রসঙ্গে জয়পুরহাট চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল বলেন,‘গুরুত্বপূর্ণ ওই পাকা সড়কের উভয় পাশে স্পিডব্রেকার দেওয়া হয়েছে। জয়পুরহাট হয়ে রাজশাহী দিনাজপুরগামী ভারী ট্রাক ও দূরপাল্লার বাস ওই পথে চলাচল করছে। কিন্তু ওই লেভেল ক্রসিংয়ে গেটম্যান নিয়োগ দেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।’

জয়পুরহাট রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার শওকত আলী বলেন, ‘জয়পুরহাট শহরের প্রধান সড়ক দক্ষিণ পাশের তেঘর এলাকায় দুটি লেভেল ক্রসিংয়ে গেট নির্মাণের পাশাপাশি একাধিক গেটম্যান কাজ করছেন। এ দুটি লেভেল ক্রসিং রেলবিভাগের অনুমোদিত।’

পশ্চিমাঞ্চল রেলের হিলি প্রকৌশল ওয়ার্কসের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আক্কেলপুরের আমুট্ট লেভেল ক্রসিংয়ের গেট নির্মাণের কাজ চলছে। এ ছাড়া বগুড়ার সান্তাহার জংশন থেকে দিনাজপুরের বিরামপুর পর্যন্ত ৬৪ কিলোমিটার রেলপথের ১০৯টি লেভেল ক্রসিংয়ের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ১৮টি লেভেল ক্রসিংয়ে ঘর নির্মাণ করার কাজ শুরু হয়েছে। এ মাসেই গেটম্যান নিয়োগেরও কথা ছিল। কিন্তু অস্থায়ীভাবে কাজ করা গেটম্যানরা আদালতে মামলা করার কারণে আপাতত তা বন্ধ রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘রেলপথে মানুষের চলাচল সহজ ও নির্বিঘ্ন করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

Print Friendly, PDF & Email

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 Checkpost Media
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!