বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ০৯:৫৬ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম:
বাজারে শীতের আগাম সবজি, দাম আকাশচুম্বী

বাজারে শীতের আগাম সবজি, দাম আকাশচুম্বী

চেকপোস্ট ডেস্ক: ঋতুচক্রে শীত আসতে এখনো বাকি মাস খানেক। তার আগেই বাজারে আসতে শুরু করেছে শীতের আগাম শাক-সবজি। রাজধানীর বাজারগুলোতে সবজির পাশাপাশি চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। এর সঙ্গ ডিম ও মুরগির দামও ক্রেতাদের ভোগাচ্ছে। মাছ এবং গরু ও খাসির মাংস কয়েক মাস ধরেই চড়া। ফলে সবজির পাশাপাশি স্বস্তি মিলছে না মাছ, মাংস ও পেঁয়াজের দামে।

বিক্রেতারা দাম কমার কথা জানালেও ক্রেতারা বলছেন, এখনো উচ্চমূল্যেই সবজি কিনতে হচ্ছে তাদের।

শুক্রবার (১১ অক্টোবর) রাজধানীর কারওয়ানবাজার, রামপুরা, মালিবাগ হাজীপাড়া, খিলগাঁও, শান্তিনগর অঞ্চলের বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

রাজধানীর বেশিরভাগ কাঁচাবাজারেরই সাপ্তাহিক বাজারদর প্রায় সমানই থাকে। দামের পার্থক্য বলতে ২ থেকে ৫ টাকা, এর বেশি হয় না। তবে রাজধানীর গুলশান, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা ও বাড্ডার কাঁচাবাজারের সবজি ও মাছের দাম শুনলে চোখ কপালে উঠতে বাধ্য। কেননা এখানে অন্যান্য বাজারের চেয়ে সবজিতে দামের পার্থক্য ৫০ থেকে ১০০ টাকা। আর মাছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা।

বাজারগুলো সরেজমিন ঘুরে দেখে গেছে, প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা যা রাজধানীর অন্যসব বাজারে ১০০ টাজা, ৪০ টাকার বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, ৪০ টাকার ঢেঁড়স ৭০ টাকায়, কেজি প্রতি ৩০ টাকার শশা বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, ৪০ টাকার ঝিঙ্গা ও চিচিঙ্গা বিক্রি হচ্ছে ৮০-৯০ টাকা কেজি করে।

এছাড়া টমেটো প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকা, পটল ৬০ থেকে ১০০ টাকা, প্রতি পিস ফুল এবং বাঁধাকপি ৫০-৬০ টাকা বিক্রি হচ্ছে যা রাজধানীর অন্যসব বাজার থেকে ৩০-৪০ টাকা বেশি।

দামের এমন পার্থক্যের কারণ জানতে চাইলে বিক্রেতারা বলেন, এখানকার ক্রেতারা উচ্চবিত্ত, তারা দামের চেয়ে পণ্যের মানের দিকেই বেশি নজর দেন। আর এ বিষয়টিকে মাথায় রেখে সবচেয় ভালো পণ্যগুলোই এখানে আনা হয়। আর তাই দামটাও বেশি হয়।

এ প্রসঙ্গে কারওয়ানবাজারের সবজি বিক্রেতা জিয়া উদ্দিন বলেন, তিন প্রকার শিম বাজারে রয়েছে। একটি ৫০ টাকা, একটি ৬০ টাকা ও অন্যটি ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আমাদের বাজারের ক্রেতারা উচ্চবিত্ত ক্রেতা। তারা ভালো মানের সবজি চান। তাই বাজারে ১৬০ টাকার শিমটিই আনা হয়। কিন্তু অন্যসব বাজারের ৫০-৬০ টাকা কেজি দরের শিম বিক্রি হয় বেশি।

তিনি বলেন, এখানে দাম বেশি, কথাটি সত্য নয়। আমরা সবচেয়ে ভালো সবজিগুলো নিয়ে আসি। ভালো পণ্যের দামতো কিছুটা বেশি হবেই। এছাড়া এই বাজারের একটা দোকান নিতে আমার ২০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এর প্রভাবওতো কিছুটা হলেও দামের ওপর পড়ে।

কথা হলো মালিবাগ কাঁচাবাজারে আসা মো. আরাফাতের সঙ্গে। তিনি বলেন, ওরাতো বলে এখানে নাকি সবচেয়ে ভালোটাই আনে। তাই দাম বেশি। আশেপাশে ভালোমানের কোনো বাজার নেই তাই অনেকটা বাধ্য হয়েই ওদের কাছ থেকে কিনতে হয়।

মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ২৪০-৩০০ টাকা কেজি। তেলাপিয়া ১৩০-১৬০ টাকা, পাঙাশ ১২০-১৫০ টাকা, শিং ৪০০-৬০০ টাকা, কাচকি ২৫০-৩৫০ টাকা, পাবদা ৪০০-৬০০ টাকা, ট্যাংরা ৫৫০-৭০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

মাংসের বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি গরু ও মহিষের মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫৫০-৫৭০ টাকা, খাসি ৭৫০-৭৮০ টাকা, ব্রয়লার ১৪০-১৫০ টাকা, লাল লেয়ার ১৮০-২০০ টাকা, পাকিস্তানি কক ২৫০-২৭০ টাকা। ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকা ডজন।

এ বিষয়ে রাজধানীর খিলগাঁও কাঁচাবাজারের মাছ বিক্রেতা নাসির উদ্দিনের বলেন, আমাদের বাজারের সব মাছ তাজা এবং বড় সাইজের। তাছাড়া এখানকার কোনো মাছে ফরমালিন নাই। ভালো জিনিসের দামটাতো একটু বেশি হবেই।

তিনি বলেন, ৩ থেকে ৪ কেজি ওজনের একটি রুই মাছকে ড্রামে জীবিত রাখতে অনেক খরচ হয়। এছাড়া নদীর মাছও থাকে বেশি। ভালো মানের মাছ আনতে আমাদের খরচটাও বেশি হয়। তাই দামটাও অন্যান্য বাজারের চেয়ে একটু বেশি।

Print Friendly, PDF & Email

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 Checkpost Media
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!