বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ০৯:৫৭ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম:
দেশে ৪১ শতাংশ হারে বেড়েছে শিশু ধর্ষণ

দেশে ৪১ শতাংশ হারে বেড়েছে শিশু ধর্ষণ

চেকপোস্ট ডেস্ক:: সপ্তাহব্যাপী চলছে শিশু অধিকার সপ্তাহ। সে ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) কন্যা শিশু দিবস। কন্যা শিশুরাও নারীদের মতো নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। বিশেষ করে তাদের ওপর ধর্ষণের মতো অমানবিক অত্যাচার বেড়েই চলেছে। গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসে দেশে শিশু ধর্ষণ বেড়েছে ৪১ শতাংশ হারে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে ৪৯৬ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ও বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই প্রতিনিয়ত বাড়ছে ধর্ষণ ও শিশু নির্যাতনের সংখ্যা। ২০১৮ সালে এ সংখ্যা ছিল ৫৭১ জন, ২০১৭ সালে ৫৯০ জন ও ২০১৬ সালে ৪৪৬ জন এ তথ্য জানায় শিশু অধিকার ফোরাম।

এদিকে মহিলা পরিষদ বছরের শুরুতে জানিয়েছিল, বছরের প্রথম মাসেই সারাদেশে ৭৯ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। সূত্র জানায়, গত বছরে অর্থাৎ ২০১৮ সালের জানুয়ারীতে ৬২ জন ধর্ষণের শিকার হয়। সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, অধিকাংশ সময় সম্মান হারানোর ভয় ও প্রভাবশালীদের চাপের মুখে শিশু নির্যাতনের ঘটনা চাপা পড়ে যায়। ধর্ষণের মামলা করতেও ভয় পান অভিভাবকরা। আবার অনেক সময় দরিদ্র অভিভাবকের পক্ষে দীর্ঘদিন মামলা চালিয়ে নেওয়াও সম্ভব হয় না। অপরাধীর শাস্তি না হওয়ায় সমাজে শিশু ধর্ষণের ঘটনা বেড়েই চলেছে।

শিশু নির্যাতনের আরও একটি বড় কারণ আইনের ধীরগতি। দ্রুত বিচার কার্যকর না হওয়ায় জামিনের সুযোগ পেয়ে যায় অপরাধীরা। আসামি প্রভাবশালী হলে সঙ্কট আরও বেড়ে যায়। তাদের চাপের মুখে নির্যাতিতরা সমঝোতায় যেতে ও মামলা তুলে নিতে বাধ্য হয়। বছর দশেক আগে ঢাকায় এক কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সহায়তায় সে পরিবার আইনের আশ্রয় নেয়।মামলার চূড়ান্ত নিস্পত্তি হতে সময় লাগে চার বছর। সেই মামলায় ধর্ষকের যাবজ্জীবন কারাদন্ড হয়। কিন্তু বাংলাদেশে বহু ধর্ষণের মামলা ঝুলে আছে বছরের পর বছর।

ধর্ষণের শিকার নারীদের আইনগত সহায়তা দেয় বেসরকারি সংস্থা আইন সালিশ কেন্দ্র। এ সংস্থার কর্মকর্তা নীনা গোস্বামী বলেন, ধর্ষণের মামলায় চূড়ান্ত সাজা হয় হাতে গোনা। ধর্ষণের বিচার পেতে অনেক কাঠ খড় পোড়াতে হয়। আইনজীবিদের মতে, বিচার না হওয়ার দুটি কারণ রয়েছে। প্রথমত আদালতে তথ্য প্রমাণ ঠিকমতো উপস্থাপন না করা, অন্যদিকে মামলা না করার ক্ষেত্রে পরিবারের অনাগ্রহ। বেসরকারী সংস্থা নারী পক্ষ জানিয়েছে, তারা এক গবেষণায় দেখেছে, ২০১১ সাল থেকে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত ছয়টি জেলায় ৪৩৭২টি ধর্ষণের মামলা হয়েছে কিন্তু সাজা হয়েছে মাত্র ৫ জনের। আইসিডিডিআরবির সিনিয়র গবেষক রুচিরা তাবাসসুম নভেদ জানান, ধর্ষণের শিকার নারী ও শিশু যে ধরনের ট্রমায় ভোগে, তাকে বলে স্টেক ট্রমাটিক ষ্ট্রেস ডিসঅর্ডার। যারা যুদ্ধে যায়, যাদের জীবনে ভয়াবহ ঘটনা ঘটে তাদের এ সমস্যা হয়। তিনি আরো বলেন মামলা করা ও বিচার চাওয়া তো বিরাট বিষয়। তেমন কিছু করতে হলে মেয়েটির জোরালো সমর্থন প্রয়োজন।

ভিকটিম শিশুদের কেসস্টাডি থেকে জানা গেছে, কম বয়সী শিশুরা নিকট আত্মীয় ও প্রতিবেশীর হাতে ধর্ষিত হয় বেশি। আর কিশোরীরা প্রেমে জড়িয়ে পড়ায় ধর্ষিত হয়। শিশুদের পরিসংখ্যান শতকরা ৩২ ভাগ আর প্রেমে জড়িয়ে পড়াদের পরিসংখ্যান শতকরা ২৯ ভাগ। ওয়ারীতে প্রতিবেশী এক রং মিস্ত্রির হাতে কয়েকমাস আগে ধর্ষিত হয় দশ বছরের সুমাইয়া । এ নির্যাতনে শিশুটি মারাও যায়। শিশুদের নিয়ে কাজ করা সংগঠন ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের নির্বাহী পরিচালক রোকসানা সুলতানা বলেন, তাঁরা একটি গবেষণা প্রতিবেদনে ৫০টি যৌন নির্যাতনের ঘটনা বিশ্লেষণ করেন। এতে দেখা যায়, ৪৬ জন নির্যাতনকারীই ছিল শিশুর পরিবারের সদস্য, পরিচিত ও আপনজন। সংগঠনটির অভিজ্ঞতা হলো শতভাগ শিশুই কোনো না কোনোভাবে নির্যাতনের শিকার। তাই শিশুর অভিভাবককে প্রথমেই বিশ্বাস করতে হবে যে শিশুর বয়স যতই হোক না কেন, তারা যৌন নির্যাতনের শিকার হতে পারে। পরিবারের সব সদস্যকে বিশ্বাস করা যাবে না।

Print Friendly, PDF & Email

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 Checkpost Media
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!