বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ০৯:৫৫ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম:
বুয়েট উপাচার্যের কাছে আবরারের মায়ের যা বলার ছিল

বুয়েট উপাচার্যের কাছে আবরারের মায়ের যা বলার ছিল

চেকপোস্ট ডেস্ক : গত রবিবার রাতে বুয়েটের শেরে বাংলা হলে ছাত্রলীগের পিটুনিতে নিহত বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদের মা সন্তান হারানোর কষ্টে ও বুয়েট উপাচার্যের আচরণে গভীর হতাশা ব্যক্ত করেছেন।

আবরারের মা স্কুল শিক্ষিকা রোকেয়া খাতুন বলেন, ‘স্কুল কলেজের গণ্ডি শেষ করে আমার ছেলেকে যখন বুয়েটে ভর্তি করে হলে উঠিয়ে দিয়ে আসি তখন ছেলেকে বলেছিলাম, বাপ-গো, এখন থেকে তুমি তোমার নিজের বুদ্ধি অনুসারে চলবা। আমি জানি, বিশ্ববিদ্যালয়ের যিনি ভিসি তিনিই সর্বপ্রধান। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে যত স্টুডেন্ট থাকে তিনি সকলের পিতৃতুল্য। সেখানকার সব সন্তানের পিতা তিনি। সব ভালো মন্দ দেখার দায়িত্ব তার’।

তিনি বলেন, ‘আমি তাই দেশের সবচেয়ে বড় বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েট সেখানে কোন কলহ নাই, কোন মারামারি নাই, রাহাজানি নাই, আমি সেই কারণে ওই ভিসি সাহেবের হাতে ওখানে ভর্তি করে দিয়ে আসলাম। যেন আমার ছেলে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসির হাতে বা এখানকার যারা আছেন সবার সাথে সুরক্ষিত থাকবে, ভালো থাকবে, সুস্থ থাকবে। কিন্তু আমি তো সেই সন্তান হারায়ে ফেলেছি, আমার সন্তান যখন হারায়ে গেছে, আমার সন্তান যখন মারা গেছে ওখানে সংবাদ পাওয়ার পরও ভিসি সাহেব তার কাছে ছুটে যান নাই। যখন জানাজা হয়েছে তখনও তিনি যান নাই’।

‘আবার যখন তিনি সুদূর ঢাকা থেকে কুষ্টিয়ায় আসছিলেন তখন আমি বুকভরা আশা নিয়ে অপেক্ষা করছিলাম, হয়তো তিনি আমার কাছে আসবেন, আমি তার সাথে সাক্ষাতে বলবো যে আমার আবেদন, আপনার হাতে সন্তান দিয়ে আসছিলাম, আমিতো আপনার কাছ থেকে সন্তান ফিরে পেলাম না, পেলাম লাশ। আমি আর কি বলতে পারি বলেন’?

‘আমার তো আর একটি সন্তান আছে, আমি সব সময় চাইবো যে আমার সন্তান উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হোক। আমি কীভাবে আপনার এই বুয়েটে দেবো, আমি তো বুঝতে পারছি না, আপনি যখন আমার সন্তানকে নিরাপত্তা দিতে পারলেন না। আমি আবার আর একটা সন্তান দেব, তাকে কীভাবে নিরাপত্তা দেবেন ?

তিনি বলেন, ‘আমি হয়তো তার কাছে বলতাম, আমি চাই আমার সন্তান যেভাবে বুয়েট থেকে লাশ আমার কাছে ফিরে আসছে, আর যেন কোন মায়ের সন্তান তার বুকে লাশ না হয়ে ফিরে যায়। আমি তার কাছে আমার মনের কষ্টের কথা জানাতাম। সন্তান আমার ফুল ফোটার আগে ঝরে গেলো, অথচ কেন এমনটি হলো, হয়ত আমি তার কাছে জানতে পার ’।

‘ওনার কাছে আমার আকুল আবেদন ছিল, অন্তত আমার দুঃখ কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘবের জন্য উনি উদ্যোগ নেবেন। অথচ তার কিছুই হলো না। আমি অত্যন্ত হতাশ হয়েছি যে, তিনি আমার সাথে দেখা না করে চলে গেলেন’।

উল্লেখ্য, গত বুধবার বিকেলে বুয়েট ভিসি অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম কুষ্টিয়া এসেছিলেন আবরার ফাহাদের পরিবারের সাথে দেখা করে সমবেদনা ও সান্ত্বনা জানাতে। কিন্তু বিক্ষোভে উত্তাল রায়ডাঙ্গা গ্রামে এসে তোপের মুখে কবর জিয়ারত শেষে ফাহাদের মায়ের সাথে দেখা না করেই পুলিশ প্রহরায় চলে যান।

Print Friendly, PDF & Email

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 Checkpost Media
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!