সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ০৯:২৮ পূর্বাহ্ন

দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকার বিরুদ্ধে সহকর্মীসহ আপত্তিকর অবস্থায় আটক; সৈয়দপুর কলেজ অধ্যক্ষের আইসিটি আইনে মামলা

দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকার বিরুদ্ধে সহকর্মীসহ আপত্তিকর অবস্থায় আটক; সৈয়দপুর কলেজ অধ্যক্ষের আইসিটি আইনে মামলা

দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকার বিরুদ্ধে সহকর্মীসহ আপত্তিকর

অবস্থায় আটক; সৈয়দপুর কলেজ অধ্যক্ষের আইসিটি আইনে মামলা

শাহজাহান আলী মনন, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি:: নীলফামারীর সৈয়দপুরে আপত্তিকর অবস্থায় সহকর্মী অধ্যাপিকা সহ জনতার হাতে আটক অধ্যক্ষ তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যে ও বানোয়াট এবং ষড়যন্ত্রমূলক আখ্যায়িত করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। ১৬ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় সৈয়দপুর শহরের বাঙ্গালীপুর নিয়ামতপুর মহল্লায় বঙ্গবন্ধু সড়ক সংলগ্ন নিজ বাস ভবন শহীদ সামসুল হক ভবনে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। এরপর তিনি উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকার অনলাইন ভার্সনে সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে সৈয়দপুর থানায় তথ্য প্রযুক্তি আইনে এজাহার দায়ের করেছেন।

এজাহারে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, আমি বর্তমানে সৈয়দপুর সরকারী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালনসহ সৈয়দপুরের নব নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক। এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত। বিগত পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামীলীগের দলীয় প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহন করি। দলীয়ভাবে ও সামাজিক ভাবে আমার সাথে অনেকের যেমন অত্যন্ত সুসম্পর্ক রয়েছে, তেমনি অনেকে আমার সামাজিক অবস্থান বিনষ্ট, রাজনৈতিক ভাবে দূর্বল করাসহ সৈয়দপুর সরকারী কলেজের অধ্যক্ষের পদ থেকে আমাকে বিতাড়িত করার জন্য বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র করে আসছে।

এমতাবস্থায় গত ১৫ সেপ্টেম্বর বিকাল আনুমানিক ৪ টায় সৈয়দপুর কলেজ থেকে পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে আমার নিজস্ব কার যোগে বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে নবনির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ’র কাছে পৌছলে আমার প্রচন্ড প্রাকৃতিক চাপ অনুভব হওয়ায় সেখানে গাড়ি রেখে স্মৃতিস্তম্ভের অফিসে প্রাকৃতিক কাজ সম্পন্ন করি। এমন সময় দেলোয়ার, পাপ্পু ও সেলিমের নেতৃত্বে ৬-৭ জন যুবক হাজির হয়ে আমার সাথে বাক-বিতন্ডা শুরু করে। এসময় তাদের মধ্যে অনেকে মোবাইল ফোনে আমার ছবি তুলতে থাকে। আমাকে তারা লাঞ্চিত করার চেষ্টা করে। আমি উক্ত অফিস থেকে বের হয়ে বিমানবন্দরে যাই এবং কাজ শেষে বাড়ি ফিরি। পরে জানতে পারি যে, উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে দৈনিক নয়াদিগন্ত পত্রিকায় (অনলাবইন ভার্সন) নিউজ ছাপা হয়েছে। উক্ত নিউজে আমার খালি গায়ের একটি ছবিও ছাপা হয়েছে। এছাড়া উক্ত সংবাদে আমার কলেজের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপিকা সুলতানা নওরোজকে জড়ানো হয়েছে। উল্লেখ্য, উক্ত সময়ে আমার সাথে কোন মেয়ে মানুষ ছিলনা। উক্ত পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমার নামে মিথ্যে সংবাদ প্রকাশের কারণে দলীয় ও সামাজিকভাবে আমার সম্মানহানি ঘটানো হয়েছে। পত্রিকা ও ফেসবুক কথিত ওই সংবাদ প্রকাশ করে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি আইনে অপরাধ করেছে। তাই এ ব্যাপাওে এজাহারটি আমলে নিয়ে প্রয়োজনে তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনেও তিনি সংবাদকর্মীদের জানান, ঘটনার সময় আগে থেকে ওৎপেতে থাকা ওই এলাকার শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ এলাকার জমি দখল করে রাখা অবৈধ অধিবাসীরা তাদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা কার্যক্রম ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এ কান্ড ঘটিয়েছে। প্রাকৃতিক কাজ সেরে তিনি দরজা খোলা মাত্রই কতিপয় স্থানীয় যুবক তাকে জোর পূর্বক অফিস ঘরের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়ে লাঞ্চিত করে এবং পড়নের বস্ত্র খুলে ভিডিও ও ছবি তুলে। যা পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্রচারসহ বিএনপি জামায়াত সমর্থিত পত্রিকা দৈনিক নয়াদিগন্ত’র অনলাইন ভার্সনে প্রকাশ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকার সৈয়দপুর সংবাদদাতা মোঃ জাকির হোসেন বলেন, সত্য সংবাদ প্রকাশ করায় যদি মামলা খেতে হয় তাতে কোন আপত্তি নেই। তবে খোকন স্যার শাক দিয়ে মাছ ঢাকার অপচেষ্টা করছেন। সংবাদটি সম্পূর্ণরুপে তথ্য ভিত্তিক ও সঠিক। যার বাস্তব প্রমান ফেসবুকেই বিদ্যমান।

তাছাড়া তিনি বলছেন প্রাকৃতিক কাজ করার জন্য তিনি সেখানে গিয়েছেন। কিন্ত ভিডিওতে তিনি অফিসের বাইরে লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে ধরপর করে অন্ধকার ঘরের মধ্যে রাখা চৌকির উপর শোয়া থেকে উঠছেন, আবার লুঙ্গি পড়া অবস্থায় দ্রুততার সাথে আন্ডার ওয়ার পরছেন। তাছাড়া ছবিতে তিনি বিবস্ত্র এবং বাইরে হাজার হাজার মানুষ কেন। সেখানে তিনি লুঙ্গি কোথায় পেলেন? অফিস ঘর অন্ধকারাচ্ছন্ন ছিল কেন? অধ্যাপিকাকে স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর আল মামুন সরকার কৌশলে পাড় করে দিয়েছেন, যা তার বক্তব্যে প্রমানিত।

মূলতঃ স্থানীয় কতিপয় মেরুদন্ডহীন প্রতিপক্ষ সংবাদকর্মীর প্ররোচনায় খোকন স্যার মিথ্যের আশ্রয় নিয়ে একটি সাজানো বক্তব্য দিয়ে দৈনিক নয়া দিগন্তের বিরুদ্ধে মামলা করে গাঁ বাঁচানোর অপচেষ্টা করেছেন মাত্র। তাছাড়া তার বিরুদ্ধে ইতোপূর্বেও আরও অনেক অনৈতিক ও বেআইনি ঘটনার অভিযোগ আমাদের কাছে রয়েছে। যা মিডিয়ার সাথে যুক্ত অনেকেই জানেন। যদিও সেগুলো এ ঘটনাকে ম্লান করে দিয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 Checkpost Media
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!