রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৫:৫৪ অপরাহ্ন

নোটিশ:
দৈনিক চেকপোস্ট পত্রিকায় সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন। ছবিসহ জীবন বৃত্তান্ত ই-মেইল করুন-checkpost2015@gmail.com এ। প্রয়োজনে-০১৯৩১-৪৬১৩৬৪ নম্বরে কল করুন।
চুনারুঘাট সেটেলমেন্ট অফিসে ঘুষ বাণিজ্য; কয়েক লাক্ষ টাকা নিয়ে পেশকার মফিজ উদাও

চুনারুঘাট সেটেলমেন্ট অফিসে ঘুষ বাণিজ্য; কয়েক লাক্ষ টাকা নিয়ে পেশকার মফিজ উদাও

চুনারুঘাট সেটেলমেন্ট অফিসে ঘুষ বাণিজ্য; কয়েক লাক্ষ টাকা নিয়ে পেশকার মফিজ উদাও

ফয়সল আহমেদ (পলাশ), চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:: হবিগঞ্জের চুনারুঘাট সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসে ঘুষ লেনদেনের ভাইরাল ভিডিও নিয়ে চলছে তোলপাড়। আপীল ও সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার রফিক উদ্দিন আহ্মেদ, বেঞ্চ সহকারী রাখাল চন্দ্র দাস ও পেশকার মফিজুলের বিরুদ্ধে কয়েক লক্ষ টাকা ঘুষ-বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যে উধাও হয়ে গেছে কথিত ‘সেই মফিজ’। এতে প্রতারণার শিকার হয়ে চুনারুঘাট উপজেলার ১২টি মৌজার ভুক্তভোগীরা হন্যে হয়ে খুজছেন মফিজকে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চুনারুঘাট সহকারী সেটেলমেন্ট অফিস এলাকার মদিনা শাহী সুপার মার্কেটের ২য় তলায় বেঞ্চ সহকারী রাখাল চন্দ্র দাস ও কথিত পেশকার মফিজ একটি রুম ভাড়া নিয়ে দীর্ঘ প্রায় ৯ মাস একসাথে অফিস করেছেন এবং লোকজনদের বাসায় যোগাযোগের ঠিকানা দিয়ে জমি সংক্রান্ত বিভিন্ন মামলায় কৌশলে ভয় দেখিয়ে ও প্রলোভন দিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন লাখ লাখ টাকা। কিন্তু বেঞ্চ সহকারী রাখাল চন্দ্র দাস এখন নিজে বাঁচানোর জন্য সকল দায় মফিজের উপর চাপিয়ে দিচ্ছেন। অথচ মফিজকে দিয়েই ১২টি মৌজার বাদী-বিবাদীদের কাছে মামলার নোটিশ জারি করানো হত এবং ৩১ ধারার মামলার শুনানীকালে এজলাসে বাদী বিবাদীর হাজিরার সময় সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসারের নিকট নথি উপস্থাপন করতেন ওই মফিজুলই। এ সময় পাশে বসা থাকতেন বেঞ্চ সহকারী রাখাল চন্দ্র দাস। তাদের অভিযোগ, মৌজার কাজ প্রায় শেষ। বর্তমানে পক্ষদের কাছ থেকে টানা নেওয়ার আর কোন সুযোগ নেই। এখন শুধু পর্চা বুঝিয়ে দেওয়া বাকি। এ অবস্থায় আপীল ও সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার রফিক উদ্দিন আহ্মেদ এবং বেঞ্চ সহকারী রাখাল চন্দ্র দাস কৌশলে মফিজকে সরিয়ে দিয়েছেন। মূলত এ অপকর্মের মূলহোতা বেঞ্চ সহকারী রাখাল চন্দ্র দাস। প্রশ্ন দেখা দিয়েছে তার খুঁটির জোর কোথায় ?

সূত্র জানায়, কানাইঘাট উপজেলায় কর্মরত থাকা অবস্থায়ও রাখাল চন্দ্র দাস ও মফিজের বিরুদ্ধে এমন অপকর্মের অভিযোগ উঠে। সে সময় অভিযোগের কারণে মৌজাগুলো জমা নিচ্ছিলেন না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

অনুসন্ধানে জানাযায়, সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার রফিক উদ্দিন আহমেদের বাড়ি ফেনী জেলায় এবং তিনি বর্তমানে ঢাকায় বসবাসরত। মাসে ২/৩ দিন সিলেট অফিসে বসেন। তিনি মাসে ১/২ দিন চুনারুঘাট অফিসে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে চলে যান। জানা যায়, বেঞ্চ সহকারী রাখাল চন্দ্র দাস ও কথিত পেশকার মফিজ মামলার নথিগুলো নিয়ে রফিক উদ্দিন আহমেদের কাছে হাজির হতেন এবং তিনি তাদের কথামতই নথিগুলোতে স্বাক্ষর করতেন। মামলার শুনানী ও নোটিশ জারির জন্য অফিস সহায়ক বরাদ্দ থাকা স্বত্তেও রফিক উদ্দিন আহমেদ নোটিশ জারি করিয়েছেন নন-স্টাফ মফিজুলকে দিয়েই। মফিজুল ইসলামের বাড়ি কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামে। সে ওই গ্রামের মৃত হানিফ মিয়ার পুত্র।

সরেজমিনে চুনারুঘাট সেটেলমেন্ট অফিসে গিয়ে জানাযায়, আলোচিত বেঞ্চ সহকারী রাখাল চন্দ্র দাসও চুনারুঘাট সেটেলমেন্ট অফিস থেকে সটকে পড়েছেন। তিনি সিলেটে তার বাসায় বসে চুনারুঘাটের ১২টি মৌজার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। রাখাল চন্দ্র দাস সটকে পড়ার পর সেটেলমেন্ট অফিসে আসা ভুক্তভোগীদেরকে বুঝিয়ে দিচ্ছেন নন-অফিসিয়াল মুন্না ও রানা নামে দুই জনৈক ব্যক্তি। ঘুষ লেনদেনের ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায় ঘুষ প্রদানকারী দিলীপ সিং বলছেন, ‘সাতপাইকা মৌজায় ৮টি ডিসপুটে ডিপি ৭১৯ খতিয়ানে আমার পর্চা একটাই হবে। আলাদা কোন পর্চা না। এ অফিসে ৩০ ধারায়ও কাজ করাইছি। ৩১ ধারায়ও আপনারা আমাকে ঠকাইবেন না’। প্রতিউত্তরে ঘুষ গ্রহণকারী বলেন, ‘এক বাদী চা শ্রমিকের কাছ থেকে না-দাবীনামা নিয়েছি। পর্চা পেয়ে যাবেন’। ঘুষ প্রদানকারী দিলীপ সিং উপজেলার দক্ষিণ কালিশিরী গ্রামের বাসিন্দা। মফিজকে ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ঘুষ দিতে একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়। একই পর্চার জন্য দিলীপ সিংয়ের প্রতিপক্ষ ফারুক মিয়া গংদের কাছ থেকেও ১ লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়েছে মফিজ জানায় ফারুক। শুধু তাই নয়, মফিজের ভাড়াটিয়া বাসার প্রতিবেশী ফারুক মাহমুদ নামে এক ব্যক্তির সাথে বন্ধুত্ব পাতিয়ে হাওলাদ হিসেবে ৪ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা নিয়ে রাতের আধারে পালিয়ে যায় মফিজ।

এছাড়াও একইভাবে পর্চা দেওয়ার কথা বলে, উপজেলার পারকুল চা বাগানের চা শ্রমিক কানু শুক্ল বৈদ্যের ২৫ হাজার, মানিক শুক্ল বৈদ্যের ১১ হাজার, গাতাবলার মোশাহিদের ৩০ হাজার, তরণীর প্রতিপক্ষ জিতেন্দ্র মহাজনের ১ লক্ষ ৪৫ হাজার, পারকুল গ্রামের নুর হোসেনের কাছ থেকে ৯৩ হাজার টাকা সহ এভাবে বিভিন্ন পক্ষগণের কাছ থেকে বেঞ্চ সহকারী রাখাল চন্দ্র দাস ও কথিত পেশকার মফিজ লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

এদিকে গতকাল পারকুল গ্রামের নূর হোসেনের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, আমি পর্চা নেওয়ার জন্য ৫ মাস পূর্বে মফিজকে লাখ টাকা দিয়েছি। এখন অফিসে গেলে বেঞ্চ সহকারী রাখাল বলেন, মামলার হাজিরা ফরমে দস্তখত নেওয়ার কথা বলে কৌশলে মফিজ না-দাবিনামায় তোমার স্বাক্ষর নিয়েছে। এদিকে পাচারগাঁও গ্রামের তরণী দেবনাথ জানান, তার কাছ থেকে পর্চা দেওয়ার কথা বলে ৩৫ হাজার টাকা ঘুষ নেন আপীল ও সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার রফিক উদ্দিন আহমেদ। কিন্তু তাকে পর্চা দেননি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেঞ্চ সহকারী রাখাল চন্দ্র দাস বলেন, ‘মফিজ পর্চা দেয়ার কথা বলে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছে। আমি এমন অভিযোগ পেয়েছি। তবে টাকা লেনদেনের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না’। চুনারুঘাট সেটেলমেন্ট অফিসের পেশকার অজিত বড়–য়া বলেন, ‘মফিজ আউট সোর্সের মাধ্যমে কাজ করত। নোটিশ জারি সহ বিভিন্ন কাজে সে নিয়োজিত ছিল। সে চলে যাওয়ার পর শুনেছি অনেকের কাছ থেকে সে টাকা নিয়েছে’।

মোবাইল ফোনে আলাপকালে আপীল অফিসার ও সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার রফিক উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘তিনি এ সব বিষয়ে কিছুই জানেন না’। এ কথা বলেই তিনি ফোন কেটে দেন। এদিকে অভিযুক্ত কথিত পেশকার মফিজের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ভুক্তভোগীদের দাবি, এ বিষয়ে দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

এস.এস.বি

Print Friendly, PDF & Email

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 Checkpost Media
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!