রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৫:৫২ অপরাহ্ন

নোটিশ:
দৈনিক চেকপোস্ট পত্রিকায় সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন। ছবিসহ জীবন বৃত্তান্ত ই-মেইল করুন-checkpost2015@gmail.com এ। প্রয়োজনে-০১৯৩১-৪৬১৩৬৪ নম্বরে কল করুন।
মিরপুরের বস্তিতে আগুন, আহত যারা: ডিএনসিসির সহায়তার আশ্বাস

মিরপুরের বস্তিতে আগুন, আহত যারা: ডিএনসিসির সহায়তার আশ্বাস

দীর্ঘ তিনঘন্টার চেষ্টায় অবশেষে নিয়ন্ত্রণে এসেছে রাজধানীর মিরপুর-৭ নম্বর সেকশনের রূপনগর থানাধীন চলন্তিকা মোড় এলাকায় বস্তিতে লাগা আগুন। এখন আগুন পুরোপুরি নির্বাপনে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। প্রথমে ১২টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করলেও পর্যায়ক্রমে তা বাড়ানো হয়েছে। সর্বশেষ ফায়ার সার্ভিসের ২৪টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে অংশ নেয়।

শুক্রবার (১৬ আগস্ট) সাড়ে সাতটার দিকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। প্রাথমিকভাবে অগ্নিকাণ্ডের কারণ জানা যায়নি। এ পর্যন্ত পাঁচজন আহতের সংবাদ পাওয়া গেছে। এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আহত পাঁচজনের মধ্যে এখনও পর্যন্ত তিনজনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন: রফিক, কবির (৩৫) ও হাবীব (১৯)।

প্রত্যক্ষদর্শীরা কয়েকজন জানায়, আগুনে এর মধ্যেই পুড়ে গেছে কয়েক শ বাসা-বাড়ি। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত বস্তির বাসিন্দারা রাস্তায় বসে আহাজারি করছেন। খুব কম বস্তিবাসীই নিজের আসবাবপত্র রক্ষা করতে পেরেছেন।

এদিকে আহতদের চিকিৎসা এবং ক্ষতিগ্রস্থদের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে সিটি করপোরেশন। মেয়র আতিকুর রহমান জানান, ‘সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে এবং ক্ষতিগ্রস্থদের সহায়তা করা হবে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, আগুনে নেভার পর ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ জানানো যাবে।

তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করার জন্য সিটি করপোরেশনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

নাশকতা কিনা- প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তদন্তের পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে। এখনও তদন্ত কমিটি প্রাথমিকভাবে গঠন করা হয়নি, আগে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা আমাদের প্রধান কাজ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার এরশাদ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বিডি২৪লাইভকে বলেন রুপনগর থানার পেছনে সাড়ে সাতটার দিকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। আগুন বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এখন আগুন নির্বাপনের কাজ চলছে। আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়া হয়। কিন্তু তারা দেরিতে আসায় আগুনের তীব্রতা বেড়ে যায়। ক্রমেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসছে। পর্যাপ্ত পানি না পাওয়ায় কিছুটা সমস্যা হয়েছিল। ঈদে অনেকে বাড়ি থাকায় তেমন বেশি ক্ষতি হবেনা।

স্থানীয় রুমানা বেগম হতাশা প্রকাশ করে বিডি২৪লাইভকে বলেন, আমি গত ২০ বছর ধরে এখানে বাস করছি। আমার সব শেষ হয়ে গেছে। আমরা কোন মতে বের হয়ে আসতে পেরেছি।

বস্তির বাসিন্দা মাহমুদা আক্তার জানান, সন্ধ্যার দিকে দুই ছেলেকে নিয়ে বাসাতেই ছিলেন। এর মধ্যেই হঠাৎ আগুন লেগেছে বলে হইচই শুনতে পান। চিৎকার শুনে বাইরে বেরিয়ে দেখেন, আক্তার মিয়ার বস্তি এলাকায় দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। প্রাণ বাঁচাতে ছেলেদের নিয়ে দৌড়ে আরামবাগ আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর সড়কে চলে আসেন।

মাহমুদা বলেন, ‘জানটা নিয়া বাইর হয়ে আসছি শুধু। আর কিছুই বাঁচাতে পারি নাই। টিভি, ফ্রিজ, আসবাবপত্র সব আগুনে পুড়ে গেছে। যখন দৌড়ে পালাই, আগুন যেন আমাদের তাড়া করছিল। আমরা যত দৌড়াই, আগুনও তত পেছন পেছন ছুটে আসে। মুহূর্তের মধ্যেই সবকিছু পুড়ে শেষ হয়ে গেছে।’

শাহাদাত হোসেন নামে একজন বস্তিবাসী জানান, ঝিলপাড় বস্তিতে সাত নম্বর, আট নম্বর ও আরামবাগ নামে তিনটি লাগোয়া বসতি রয়েছে। সেখানে এক হাজারেরও বেশি পরিবারের বসবাস। সন্ধ্যা ৭টার দিকে বস্তির মাঝামাঝি এলাকা থেকে আগুনের সূত্রপাত। আগুনে তার ঘরটিও পুড়ে গেছে।

ঝিলপাড় বস্তির বাসিন্দা রহিত বলেন, এখানে প্রায় তিন হাজার ঘর রয়েছে। ভেতরে অনেক লোক আটকা পড়ে। আমিও ভেতরে ছিলাম। অনেক কষ্টে বেরিয়ে এসেছি।

আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি কাজ করেছে এলাকাবাসী।

Print Friendly, PDF & Email

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 Checkpost Media
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!