শুক্রবার, ০৫ Jun ২০২০, ০৮:৪৮ অপরাহ্ন

সুরক্ষা ও আর্থিক নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত শায়েস্তাগঞ্জের সাংবাদিকরা

সুরক্ষা ও আর্থিক নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত শায়েস্তাগঞ্জের সাংবাদিকরা

সৈয়দ হাবিবুর রহমান ডিউক:: করোনা ভাইরাস ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ায় সারাদেশের ন্যায় শায়েস্তাগঞ্জে ও চলছে লকডাউন। চলমান লকডাউনে সাংবাদিকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে ঘরে বসে করোনাভাইরাসসহ দেশ বিদেশের খবর পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। কিন্তু তাদের সুরক্ষা দিতে গণমাধ্যম কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় অভিভাবক সংগঠনগুলো উদাসীন। এমনকি অনেক প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে সংবাদকর্মীদের বেতন পর্যন্ত দিচ্ছে না। এ অবস্থায় নিজের সুরক্ষা এবং আর্থিক নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত শায়েস্তাগঞ্জের সংবাদকর্মীরা।

সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, করোনাভাইরাসের ভয়ঙ্কর থাবা থেকে দেশের সাধারণ মানুষকে রক্ষা করতে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন শায়েস্তাগঞ্জে কর্মরত সংবাদকর্মীরা। এমনকি সঠিক সংবাদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেও সঠিক বার্তাটা দিচ্ছেন তারা। তাদের লেখনীর মাধ্যমে বেরিয়ে আসে সমাজের অসঙ্গতি। করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে তারা কার্যকর তথ্য পৌঁছে দিচ্ছেন সাধারণ মানুষের কাছে। জনগণের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধিতে রাখছেন অনন্য ভূমিকা। তাই সংবাদকর্মীদের সুরক্ষা ও আর্থিক সুবিধা, বেতন-ভাতা আদায়ে এগিয়ে আসতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় অভিভাবক সংগঠনগুলোকে। বিশেষ করে প্রেসক্লাবগুলোর নেতৃবৃন্দ সংবাদকর্মীদের দাবি-দাওয়া আদায়ে সোচ্চার হতে হবে। প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তৃপক্ষ ও সরকারের নীতি নির্ধারকদের টনক নড়াতে রাখতে হবে জোরাল ভূমিকা।

এ বিষয়ে আনন্দ টিভির জেলা প্রতিনিধিও চেকপোস্ট এর সম্পাদক শেখ শাহাউর রহমান বেলাল বলেন, প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গণমাধ্যমে কাজ করতে হয়। নির্ঘাত মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়েও করোনাকালে দেশ ও দেশের মানুষকে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসসহ দেশ বিদেশের খবর সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছি। কিন্তু দুঃখের বিষয় যে স্থানীয় সকল স্টাফদের বেলায় কর্তৃপক্ষ উদাসীন। এখন পর্যন্ত কোনো সুরক্ষা সামগ্রী বা কোনো আর্থিক সহযোগিতা পাই নি। নিজের টাকায় ক্রয় করেছি একটি মাস্ক। এই হলো আমাদের সুরক্ষা ব্যবস্থা। যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

এ বিষয়ে এ মাঠ পর্যায়ে কর্মরত দৈনিক যুগান্তর ও জাগো নিউজের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি কামরুজ্জামান আল রিয়াদ বলেন, করোনায় জনসাধারণের মতো সাংবাদিকদের ও জীবনে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। স্থানীয় পত্রিকাসহ জাতীয় অনেক দৈনিক বন্ধ থাকায় সাংবাদিকরা বেতন ভাতা পাচ্ছেন না।পরিবার পরিজন নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন সাংবাদিকরা।

এ ব্যাপারে দৈনিক শায়েস্তাগঞ্জ এর সম্পাদক এস এইচ টিটু বলেন, দীর্ঘদিন ধরে হবিগঞ্জের স্থানীয় দৈনিক পত্রিকা বন্ধ থাকায় অনলাইনেই আমরা সাথে সাথে সংবাদ দেয়ার চেষ্টা করছি, এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ এর সাংসদ এডভোকেট মো. আবু জাহিরের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

এ বিষয়ে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমি আক্তার এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, সাংবাদিকরাও মাঠ পর্যায় কাজ করছে, সাংবাদিকরা সরকারী সহায়তা স্বেচ্ছায় নিতে চাইলে, আমার কাছে তালিকা দিলে উনাদেরকে সহযোগিতা করা হবে। উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে কোন ধরনের সুরক্ষা সরঞ্জামাদি দেয়া যায় কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকার থেকে পিপিই পড়তে নিষেধ করা হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 Checkpost Media
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!