মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২০, ০৬:৫২ অপরাহ্ন

যে কারণে কদরের রাত হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ রাত

যে কারণে কদরের রাত হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ রাত

মোঃ আজিজুল ইসলাম, জেলা প্রতিনিধি::
লাইলাতুল কদর মহান আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে উম্মতে মোহাম্মদীর জন্য এত বড় উপঢৌকন যা কল্পনাতীত, অভাবনীয়, অচিন্তনীয়। পবিত্র কোরআনে এ রাত সম্পর্কে সূরা কদর নামে স্বতন্ত্র একটি সূরাও আছে। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন-নিশ্চয়ই আমি কোরআন অবতীর্ণ করেছি মহিমান্বিত রজনীতে। আপনি কি জানেন মহিমান্বিত রজনী কী? মহিমান্বিত রজনী হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। এ রাতে প্রত্যেক কাজের জন্য ফেরেস্তাগণ এবং জীবরাঈল আমিন তাদের প্রভুর আদেশক্রমে অবতীর্ণ হয়। ফেরেস্তাগণ মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে শান্তির বাণী নিয়ে আগমন করেন।(সুরা কদর)
পূর্ববর্তী অন্যান্য নবীর উম্মতগণ দীর্ঘ হায়াত পাওয়ার কারণে বেশি বেশি ইবাদত করতে পেরেছেন ‌কিন্তু শেষ নবীর উম্মতগণের স্বল্প হায়াত থাকার কারণে বেশি ইবাদত হতে বঞ্চিত হয়েছে। তাই আল্লাহ পাক অনুগ্রহ করে এই রাতটি উম্মাতে মুহাম্মদিকে উপহার হিসেবে দিলেন। এ সম্পর্কে হযরত আনাছ (রা.) হতে বর্ণিত হুজুর (সা.) ইরশাদ করেন, শবে কদর একমাত্র আমার উম্মতকে দেওয়া হয়েছে, অন্য কোনো উম্মতকে নয়। (মুসলিম, দুররে মানছূরে) অন্য বর্ণনায় হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেন, রাসুল (সা.) বনী ইসরাইলী একজন ব্যক্তির কথা উল্লেখ করে বললেন যে,ঐ লোকটি আল্লাহর রাস্তায় এক হাজার বছর যুদ্ধ সামগ্রিতে আচ্ছাদিত ছিল। এতে সাহাবায়ে কেরামের ঈর্ষান্বিত হলে মহান আল্লাহ তায়ালা সূরা কদর নাজিল করেন। অন্য হাদীসে এসেছে,নবী (সাঃ) বণী ইসরাইলী চারজন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে বললেন যাদের প্রত্যেকেই আল্লাহর আরাধনায় ৮০ বছর কাটিয়েছেন এবং এক পলকের জন্য নাফরমানি করেননি।তারা চারজন হলেন, আইয়ূব (আ.), যাকারিয়া (আ.), হিযকিল (আ.), ইউশা (আ.)। সাহাবাগণ আশ্চর্য হলে তখন হযরত জিবরাঈল আমিন উপস্থিত হন এবং বলেন হে নবী! আপনার ওপর আপনার উম্মতের জন্য ওদের চেয়েও উত্তম জিনিস দান করেছেন। অতঃপর সুরা কদর পড়ে শোনান।
শাবান মাসের শবে বরাত এবং আশুরার দিবসের তারিখ পরিস্কার ভাবে হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু লাইলাতুল কদরের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাত নির্দিষ্ট না হওয়ার কারণ প্রসঙ্গে হযরত উবাইদা ইবনুস সামিত (রাঃ) বর্ণনা করেন-রাসুল(সাঃ) আমাদের লাইলাতুল কদর বলে দেওয়ার জন্য ঘর হতে বের হলেন; কিন্তু এসময় দু’জন মুসলমান প্রচন্ড ঝগড়ায় লিপ্ত ছিল। অতঃপর নবী (সাঃ) বললেন, আমি তোমাদের লাইলাতুল কদর বলে দেওয়ার জন্য বের হয়েছিলাম; কিন্তু দুঃখজনক অমুকে অমুকে প্রচন্ড ঝগড়াঝাঁটি করছিলো যে কারণে আমার স্মরণ থেকে তা তুলে নেয়া হয়েছে। তবে এটা আমাদের ভালোর জন্য হয়েছে বলে আমি মনে করি। তোমরা লাইলাতুল কদর রাত তালাশ করো রমযানের ২৯,২৭ এবং ২৫ তারিখে। (সহীহ বুখারী)। বুজুর্গানদের অনেকেই ছাব্বিশ তারিখ দিবাগত (সাতাশ তারিখের) রাতকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। 
শবে কদরের মতো আর যেহেতু কোন রাত নেই তাই এ রাতকে সমাধিক গুরুত্ব দেয়া ঈমানদার ব্যক্তিদের দায়িত্ব। ভাগ্যবান তারা যারা এ রাতকে ইবাদতে মশগুল থাকে। হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রাঃ) রাসুল (সাঃ) কে জিজ্ঞেস করেছিলেন-হে আল্লাহর রাসূল! যদি আমি ভাগ্যক্রমে এ রাতকে পেয়ে যায়, তাহলে আমি কি দোয়া করব? তখন রাসুল (সাঃ) বললেন, তুমি এ দোয়া কর,হে আল্লাহ! তুমি ক্ষমতাধর, তুমি ক্ষমা করা পছন্দ করো। অতএব তুমি আমাকে ক্ষমা কর। শবে কদরের রাতে মহান আল্লাহ তায়ালা সিদরাতুল মুনতাহার বিশেষ ফেরেস্তাগণকে দায়মুক্ত করে হযরত জিবরাঈল (আঃ)-এর নেতৃত্বে প্রেরণ করেন। তার নেতৃত্বে অসংখ্য ফেরেস্তাদের আগমন ঘটে এবং তারা দোয়া মুনাজাতে ‘আমিন’ ‘আমিন’ বলতে থাকেন। সর্বোপরি মহিমান্বিত এই রজনীতে অধিক পরিমাণে তওবা-ইস্তিগফার, দোয়া ও জিকির-আসকার, কোরআন তেলাওয়াত, নফল নামাজ ও তাসবিহ-তাহলিল,কবর জিয়ারতসহ অন্যান্য ইবাদাতের মাধ্যমে ইহকালীন কল্যাণ ও পরকালীন মুক্তির পাশাপাশি বৈশ্বিক মহামারিতে থেকে রক্ষা পেতে মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি।
Print Friendly, PDF & Email

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 Checkpost Media
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!