রবিবার, ৩১ মে ২০২০, ০৩:০৫ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম:
অন্যের মন্দ দেখা আর নিজে ভালো থাকা শোক সংবাদ: সৈয়দপুরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে আওয়ামীলীগ নেতা আঃ লতিফের ইনতেকাল শায়েস্তাগঞ্জ রেলষ্টেশন থেকে হবিগঞ্জ সদরে যাতায়াত ও সামাজিক তথা শারীরিক দূরত্ব নীলফামারীতে ২৪ ঘন্টায় চাঞ্চল্যকর মিনা হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ৩ প্রবাসে থেকেও অসহায় ও কর্মহীন মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন এম এ রহিম সিআইপি মৌলভীবাজার অনলাইন প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের উপহার দিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মাধবপুরে হাওরে হাঁসের খামার সংকটময় সময়ে গবেষক হাকিম মোহাম্মদ ইকবাল ইউসুফ এর একটি বিশ্লেষণধর্মী গবেষণা শায়েস্তাগঞ্জে করোনা আতঙ্কের মাঝে ডেঙ্গুর আশঙ্কা তালতলীতে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত
ফলোআপঃ রাজনগরের ফতেপুরে ত্রানের চাল ওজনে কম দেবার ঘটনায় ৩ সদস্যর তদন্ত কমিটি গঠন

ফলোআপঃ রাজনগরের ফতেপুরে ত্রানের চাল ওজনে কম দেবার ঘটনায় ৩ সদস্যর তদন্ত কমিটি গঠন

আব্দুল হাকিম রাজঃ মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার ফতেপুরে ত্রানের চাল ওজনে কম দেওয়ার ঘটনা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় তা ভাইরাল হয়েছে। সচেতন মানুষজন ঘটনার সাথে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবী করছেন।

সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে ঘটনার বিস্তারিত তাৎক্ষণিক উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ভারপ্রাপ্ত) কে ফোনে অবগত করলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে শুক্রবার বিকালে ফতেপুর ইউনিয়নের ট্যাগ অফিসার রাজনগর উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ শাহাদুল ইসলাম সরেজমিন ইউপি অফিসে এসে কিছু প্যাকেট ওজন করে ওজনে কম দেবার সত্যতা পান।

এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, আমি আসার খবর পেয়ে ইউপি অফিসের লোকজন হয়ত চেষ্টা করেছে কিছু প্যাকেট ওজনে ঠিক করার।কিন্তু তারপরও প্রতিটি প্যাকেটে ২শ,৩শ,৫শ গ্রাম কম পেয়েছি।এবং তাদেরকে বলে দিয়েছি একটা চাল ও কম দেয়া যাবেনা।

এদিকে শনিবার (২৫ এপ্রিল) উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) উর্মি রায় সরেজমিন ফতেপুর এসে কিছু মানুষের সাথে এ ব্যাপারে কথা-বার্তা বলে গেছেন।এ সংক্রান্ত একটি সংবাদ প্রতিবেদকের কাছে আসলে শনিবার রাত সাড়ে ৯ টায় আনন্দ টেভির জেলা প্রতিনিধি আব্দুল হাকিম রাজ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, এ ব্যাপারে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি করা হচ্ছে। রবিবার সকালেই তদন্ত কমিটি করে যত দ্রুত সম্ভব রিপোর্ট দেবার কথা বলব। এবং তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রাপ্তি সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

উল্যেখ্য,  মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার ফতেপুরে সরকারী ত্রানের চাল বিতরণে দফায় দফায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগের মধ্যে রয়েছে তালিকায় ভুয়া নাম, স্বজনপ্রীতি, ওজনে কম দেয়া, চাল গ্রহিতাদের কাছ থেকে টাকা আদায় সহ নানা অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে বেশ কিছুদিন যাবৎ  সোশ্যাল মিডিয়ায় এলাকার সচেতন মহল নানা মন্তব্য করে আসলেও ঠনক নড়ছেনা সংস্লিষ্ট কতৃপক্ষের। স্থানীয় সাংবাদিকদকদের কাছে সচেতন মানুষজন বিভিন্ন সময় মৌখিকভাবে নানা অভিযোগ করে আসলেও, সাংবাদিকরা তা যাচাই-বাচাই শুরু করেন।

জানাযায়, গত কয়েকদিন পুর্বে ১৮৫টি পরিবারে ১০ কেজি চাল ও ২ কেজি আলু বিতরণ করা হয়। চাল বিতরণের সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় এলাকার সচেতন মানুষজন তালিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন। কেউ বলে তালিকায় কিছু ভুয়া নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে,আবার কেউ বলেন তালিকায় ব্যাপক স্বজনপ্রীতি সহ একই পরিবার বার বার সরকারী অনুদান পাচ্ছে।

সরেজমিন অনুসন্ধান করে অভিযোগের কিছু সত্যতাও পাওয়া যায়। তালিকার ১১৬ নং এ এবাদ মিয়া পিতা বদি মিয়া,গ্রাম তুলাপুর উল্যেখ করা হলেও এ নামে উক্ত গ্রামে কোন মানুষ নাই বলে গ্রামবাসী নিশ্চিত করেন। এভাবে তালিকার আরো কিছু নামের সাথে পিতার নাম কিংবা গ্রামের নামের মিল পাওয়া যায়নি। আবার কিছু পরিবারে ভিজিডি চাল পাওয়ার পরও ত্রানের ১০ কেজি চাল পাওয়ার অভিযোগের ও সত্যতা পাওয়া গেছে।আবার কারো কাছ থেকে ১০টাকা গাড়ী ভাড়াও আদায় করা হয়েছে। যার প্রমান এ প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে।

গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) এ প্রতিবেদক ফতেপুরের মোকামবাজারে অবস্থানকালে একজন দোকানী উপকারভোগি একজনের চাল তার দোকানের মিটারে মেপে প্যাকেটে ১ কেজির বেশী চাল কম থাকার বিষয়টি প্রতিবেদককে জানালে এ প্রতিবেদক ইউপি অফিস থেকে চাল নিয়ে বের হয়ে আসা কয়েকজন উপকারভোগির চাল মিটারে মেপে তার সত্যতা পাওয়া যায়।

৩/৪ জন উপকারভোগিকে নিয়ে প্রতিবেদক ইউপি চেয়ারম্যান নকুল চন্দ্র দাশের কাছে গিয়ে বিষয়টির ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি জানান, গুদাম থেকে দেড়কেজি করে চাল কম দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে আনন্দ টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি ও সাপ্তাহিক চেকপোষ্ট পত্রিকার প্রধান সম্পাদক আব্দুল হাকিম রাজ তাৎক্ষনিক রাজনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ভারপ্রাপ্ত) উর্মি রায়কে ফোন দিলে তিনি জানান, কোন চাল কম দেওয়া হয়নি। প্রতিজন ১০ কেজি চাল এবং ২ কেজি আলু পাওয়ার নিয়ম।

প্রতিটি প্যাকেটে ১ কেজি আবার কিছু প্যাকেটে দেড় কেজি চাল ওজনে কম দেওয়ার বিষয়টি প্রতিবেদক উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানালে তিনি জানান এসব বিষয় মৌখিক অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেয়া যায়না! তাই তিনি প্রতিবেদককে একটি লিখিত অভিযোগ দেবার কথা বলেন। উত্তরে প্রতিবেদক জানান, যেহেতু এখনো ইউপি অফিসে চাল বিতরণ করা হচ্ছে তাই লিখিত অভিযোগের অপেক্ষা না করে আপনি ট্যাগ অফিসারকে পাঠিয়ে সরেজমিন যাচাই করে নেন। আমি বিষয়টি দেখছি বলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ভারপ্রাপ্ত) ফোন রেখে দেন।

কিছু সময় পর ইউপি চেয়ারম্যান নকুল চন্দ্র দাশ প্রতিবেদককে ফোন করে বলেন এসিল্যান্ড ম্যাডাম তাকে ফোন দিয়ে চাল ওজনে কম দেবার বিষয়টি জানিয়েছেন,কিন্তু তিনি কয়েকটা প্যাকেট মেপে দেখেছেন চাল ঠিক আছে।প্রতিবেদক কয়েকজন উপকারভোগির চাল মেপে দেখেছেন বলে ইউপি চেয়ারম্যানকে জানালে তিনি এ প্রতিবেদককে ইউপি অফিসে ডেকে নিয়ে ২ জন ইউপি সদস্য সহ এলাকার কিছু মানুষের সামনে প্রতিবেদককে ফের চালের প্যাকেট গুলা মেপে দেখার অনুরোধ করেন।

এ সময় বেশ কিছু চালের প্যাকেট মেপে প্রতিটা প্যাকেটে ১ কেজির বেশী চাল কম থাকার ফের প্রমান পাওয়া যায়।

এ সময় ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, যারা প্যাকেট করেছে তারা ভুল করেছে।

অধিকাংশ চালের প্যাকেট বিতরণের পর বিকালে খবর পাওয়া যায় উপজেলা কৃষি অফিসার( ফতেপুরের ট্যাগ অফিসার) ইউপি অফিসে এসে কয়েকটি প্যাকেট মেপে প্রতি প্যাকেটে ২শ,৩শ গ্রাম আবার কোন প্যাকেটে ৪শ গ্রাম কম পেয়েছেন।

যেখানে ইউপি চেয়ারম্যানের সামনে চালের প্যাকেটে ১ কেজির বেশী ওজনে কম পাওয়া গেল,সেখানে তিনি কিভাবে বলছেন ২শ.৩শ গ্রাম ৪শ গ্রাম কম পাওয়া গেছে প্রশ্ন করলে উপজেলা কৃষি অফিসার জানান,তাহলে হয়ত আমি আসার খবর শুনে কয়েকটা প্যাকেট তারা ওজনে ঠিক করে নিছে।

এরপর এ প্রতিবেদক উপজেলা কৃষি অফিসারকে কয়েকটা ভিডিও ফুটেজ পাঠিয়ে দেখার অনুরোধ করেন।

সন্ধ্যায় ফের উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে ফোন দিয়ে বিষয়টার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি জানান,ট্যাগ অফিসারকে তিনি পাঠিয়েছিলেন। মোবাইলে ট্যাগ অফিসার জানিয়েছে প্যাকেটে ২শ.৩শ বা আধা কেজি কম ছিল। এ সময় প্রতিবেদক উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বলেন, যেহেতু অভিযোগটি করেছি আমি,তাই তার সত্যতা প্রমানের দায়িত্বও অভিযোগকারীর, তাই ট্যাগ অফিসারের দায়িত্ব ছিল অভিযোগকারীকে সাথে নিয়ে যাওয়া।তানা করে তিনি কিভাবে কনফার্ম করলেন ৩শ/৪শ গ্রাম কম ছিল। উত্তরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ভারপ্রাপ্ত) জানান, তা ঠিক, তবে আমি ট্যাগ অফিসারকে বলেছি লিখিতভাবে প্রতিবেদন দিতে।

এদিকে পুর্বের তালিকায় স্বজনপ্রীতি সহ ভুয়া নাম অন্তর্ভুক্তির ব্যাপারটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হলেও ফের বর্তমান তালিকার ৩৫০ নামের মধ্যে কিছু নাম ভুয়া পাওয়া যায়। এবং তালিকায় এমন কিছু নাম দেখা যায়,যারা ইতিমধ্যে সরকারী ত্রান পেয়েছে।

আলাপকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ভারপ্রাপ্ত)প্রতিবেদককে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আপনি সচেতন থাকার কারনে বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি, তবে এব্যাপারে আইনগত কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে কিনা প্রশ্ন করলে তিনি জানান, লিখিত অভিযোগ ছাড়া আইনী ব্যবস্থা নেয়া যায়না!

নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে ইউপি অফিসে চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতে এসব চাল প্যাকেট করেন ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আমিন চৌধুরীর নেতৃত্বে কিছু স্বেচ্ছাসেবী যুবক। তালিকা মোতাবেক ৩৫০ প্যাকেট করার কথা থাকলেও সেখানে তালিকার বাহিরেও কিছু প্যাকেট করা হয়।তালিকার অতিরিক্ত প্যাকেট করতে গিয়ে চাল ওজনে কম দেবার ঘটনা ঘটেছে।

আবার করোনা পরিস্থিতিতে সরকারী এসব ত্রান বিতরণের সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ভারপ্রাপ্ত) কতৃক নির্ধারিত ট্যাগ অফিসার উপস্থিত থাকার নিয়ম থাকলেও চাল বিতরণের সময় ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি। আবার ত্রান বিতরণকালে মিডিয়া কর্মীদের অবগত করে প্রচার-প্রচারনা চালানোর সরকারী নির্দেশ থাকলেও ফতেপুর ইউনিয়নে তা কখনো করা হয়নি। ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে ত্রান তালিকা প্রস্তুত কমিটি নিয়েও রয়েছে নানা গুঞ্জন।

বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত পুর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহনের জোর দাবী জানিয়েছেন সচেতন মহল।

Print Friendly, PDF & Email

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 Checkpost Media
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!