শুক্রবার, ০৫ Jun ২০২০, ০৮:৪৩ অপরাহ্ন

সাভারে এখনো ২০ শতাংশ পোশাক কারখানা খোলা

সাভারে এখনো ২০ শতাংশ পোশাক কারখানা খোলা

শিল্পাঞ্চল সাভার ও আশুলিয়ায় প্রায় সহস্রাধিক পোশাক কারখানা রয়েছে। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব থেকে শ্রমিকদের সুরক্ষার কথা চিন্তা করে সাভারের আশুলিয়ায় প্রায় ৮০ শতাংশ পোশাক কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। করোনার ভয়াবহতার কথা মাথায় রেখে ২০০৬ এর ১২ ও ১৬ ধারা মোতাবেক কিছু কারখানা বন্ধের নোটিশ টানিয়েছে । তবে অনেক কারখানা এখনো খোলা রয়েছে। এসব কারখানায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজে যোগ দিচ্ছে নিরুপায় পোশাক শ্রমিকরা।

শনিবার (২৮) মার্চ সকালে সাভারের আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় বার্ডস গ্রুপের বার্ডস এ অ্যান্ড জেড লিমিটেড, বার্ডস ফেডরেক্স লিমিটেড, বার্ডস গার্মেন্টস লিমিটেড (ইউনিট-২), বার্ডস আর এন আর ফ্যাশন লিমিটেড, বার্ডস ফেডরেক্স লিমিটেড (এক্সেসরিজ), এনআরএন নীটিং অ্যান্ড গার্মেন্টস লিমিটেড, নিউ এশিয়া ফ্যাশন লিমিটেড, এলাইন এ্যাপারেলস লিমিটেড, মেট্রো নিটং অ্যান্ড ডাইং মিলস লিমিটেড, এমকে অ্যাপারেলস লিমিটেড, জিএমএস কম্পোজিট নিটং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, ডেবনিয়ার লিমিটেড, অরবিটেক্স নিট ওয়্যার লিমিটেডসহ প্রায় ৮০ শতাংশ কারখানা বন্ধ রাখা হয়েছে।

এদিকে একই এলাকার প্রায় ২০ শতাংশ কারখানা খোলা রয়েছে। যেখানে ঝুঁকি নিয়ে শ্রমিকরা নিরুপায় হয়ে কারখানায় যোগ দিচ্ছে। কারখানায় কাজে যোগ দেওয়ার জন্য সকালে বের হয়েছেন এক শ্রমিক। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, কারখানা কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের সুরক্ষার ব্যবস্থা না করে শুধু মাস্ক পরে কাজ করতে বাধ্য করছে। আমরা অনেক আতঙ্কে আছি। পর্যাপ্ত সুরক্ষার ব্যবস্থা করে কারখানা খোলা রাখলে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। তবে শুধু মাস্ক বিতরণ করে কাজে বাধ্য করানো হচ্ছে। কারখানার ভিতরে গিজগিজ করে মানুষ, এরকম অবস্থায় মনে হয় আমরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছি। যেখানে বিনা কারণে রাস্তায় বের হতে দিচ্ছে না পুলিশ ও সেনাবাহিনী, সেখানে একই ছাদের নিচে আমরা শত শত শ্রমিক। আমাদেরও বাঁচার অধিকার আছে, আমরা বাঁচতে চাই।

অপর এক শ্রমিক এ প্রতিবেদককে বলেন, আমরা জানি অনেক কারখানা ছুটি দিয়েছে। তারা তাদের শ্রমিকদের সুরক্ষার কথা চিন্তা করে কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছে। অনেক বড় গ্রুপের কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, আর আমাদের কারখানা এখনো খোলা রেখেছে। ঝুঁকি নিয়ে কাজ করাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। আমরা কাজ করতে বাধ্য তাই কাজ করছি। তবে আমার কিছু হয়ে গেলে কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে পরিবারের সকল সদস্যদের ভরণপোষণের দাবি করছি। কেন না একমাত্র আমিই আমার পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।

জেড থ্রি কম্পোজিট নিট ওয়্যার লিমিটেড কারখানার অ্যাডমিন অফিসার বসির আহমেদের সাথে কথা হলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, আমরা এখনও কোনো নির্দেশনা পাইনি, নির্দেশনা পেলে কারখানা বন্ধ রাখা হবে।

বাংলাদেশ বস্ত্র ও পোশাক শিল্প শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সারোয়ার হোসেন বলেন, করোনাভাইরাসের মহামারি সম্পর্কে জানা থাকলে কেউ হয়ত কারখানা খোলা রাখতো না। আজ থেকে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। তারা শ্রমিকদের সুরক্ষার কথা চিন্তা করে ছুটি দিয়েছে। যেসব কারখানা ছুটি দেওয়া হয়েছে ওই কারখানা গুলোতে পর্যাপ্ত সুরক্ষার ব্যবস্থা ছিলো। হাত ধোয়া, মাস্ক পড়াসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ তারা নিয়েছিলো। তার পরেও তারা কারখানা বন্ধ রেখেছে। কিন্তু এখনো কিছু কিছু কারখানা খোলা রয়েছে যারা একটি মাস্কও সরবরাহ করেনি। সব শ্রমিকের সুরক্ষা নিশিত করার আহবান জানান তিনি।

এব্যাপারে ডিইপিজেড এর মহাব্যবস্থাপক আব্দুস সোবাহান বলেন, শিল্পাঞ্চল সাভার ও আশুলিয়ার অনেক কারখানা বন্ধ রয়েছে। খোলা থাকা কারখানাগুলো সম্পর্কে সিদ্ধান্ত আগামীকাল জানা যাবে বলেও জানান তিনি।

Print Friendly, PDF & Email

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 Checkpost Media
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!