বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২০, ১০:১৯ অপরাহ্ন

খালেদার মুক্তিতে প্রাণ পাচ্ছে ফিরোজায়!

খালেদার মুক্তিতে প্রাণ পাচ্ছে ফিরোজায়!

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি অন্যান্য সময়ের মতো গুলশানের বাসা ‘ফিরোজা’ থেকে আদালতের উদ্দেশে বের হয়েছিলেন। এরপর বকশিবাজারের আলীয়া মাদরাসা মাঠের অস্থায়ী আদালত থেকে সোজা চলে গেলেন কারাগারে। সেখান থেকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে চিকিৎসা নিয়েছেন অনেক দিন। অনেক চেষ্টায়ও মুক্তি মেলেনি। অবশেষে সরকারের নির্বাহী আদেশে মিলতে যাচ্ছে মুক্তি। ছয় মাসের জন্য মুক্ত হয়ে ২৫ মাস পর সেই ‘ফিরোজায়’ ফিরছেন বিএনপি প্রধান বেগম খালেদা জিয়া।

মঙ্গলবার খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত আইনমন্ত্রী জানানোর পর পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে তার ফিরোজাতে ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

বিএনপি চেয়ারপারসনের ভাই শামীম ইস্কান্দর বলেন, তার বোন মুক্তি পাওয়ার পর তার নিজের বর্তমান বাসভবন ফিরোজাতেই উঠবেন।

এতদিন তিনি কারাগারে থাকায় একদম সুনসান নীরবতা ছিলো গুলশানের বাসায়। তবে তিনি ফেরার পর নেতাকর্মীদের ভিড় করতে নিষেধ করা হলেও নিশ্চয়ই পরিবারের সদস্যরা ছুটে যাবেন। শীর্ষ নেতারাও সাক্ষাত করতে যাবেন। তিনি ছিলেন না বলে নেতাদেরও এতদিন বাসায় যাওয়ার প্রয়োজন পড়েনি। সে কারণে বলাই যায় এখন ফিরোজা ভবনে প্রাণ ফিরে পাবে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মুক্তি পাওয়ার পর আত্মীয় স্বজনরা খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাত করবেন। সেখানে তার মতামত জানবেন। তিনি যে সিদ্ধান্ত দেবেন সেটাই চূড়ান্ত হবে।

এদিকে তার মুক্তির সিদ্ধান্তের খবর জানার পরই খালেদা জিয়ার বাসা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা শুরু হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সদস্য সংখ্যাও।

অন্যদিকে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে দেশে এখন সংকটকাল চলছে। সবার মধ্যে ভাইরাস সংক্রমণের আতঙ্ক বিরাজ করছে। এই অবস্থায় আমরা যদি হাসপাতাল এবং চেয়ারপারসনের বাসার সামনে ভিড় করি, তাহেল ভাইরাস সংক্রমণের সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। তাই সবার কথা চিন্তা করে আমাদেরকে একটু শান্ত থাকতে হবে। আমি সবাইকে অনুরোধ করব, আপনারা যে যার জায়গায় থাকুন। খালেদা জিয়ার বাসা অথবা হাসপাতালে গিয়ে কেউ ভিড় করবেন না’

অন্যান্য সময় কারা এই বাসায় থাকতেন তা না জানা গেলেও খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে কোকোর স্ত্রী সন্তানরা দেশে আসলে এখানেই উঠতেন।

জানা গেছে, খালেদা জিয়া মুক্তি পাচ্ছেন এই খবরের পর বাসার রান্নাঘর, থাকার ঘর, বসার ঘর, বারান্দা, বাসার লন, দরজা-জানালা, বিছানাপত্র, বাথরুম, ফ্যান-এসি, পর্দা—যা কিছু আছে, সব কিছু ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করা হয়। বাসার সামনে-পেছনের বাগান, খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত গাড়ি, সিএসফের গাড়ি— সব ধুয়ে-মুছে পলিশ করা হয়েছে।

টিভি-ফ্রিজ, সোফা-আলমারি, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ অব্যাহত রয়েছে। ঝাড়বাতি, বাড়ির আঙ্গিনার ফ্লাডলাইট, সিসিটিভি ক্যামেরা, ফুলদানিতে জমা ময়লা, শখের সবজি বাগান, ছাদে হাঁটার জায়গা—সবকিছুই নতুন করে সাজানো হয়েছে। কোথাও কোনো কিছুর যেন ঘাটতি না থেকে, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি সিএসএফের সদস্যরা।

এদিকে খালেদা জিয়ার মুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে দলের সিদ্ধান্ত কী হবে, তা এখনও বলতে পারেননি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, আমরা মাত্র বিষয়টি জেনেছি। এখনও এ বিষয়ে আলোচনা করিনি। তবে আমরা তো ম্যাডামকে বিদেশে নিতে চেয়েছিলাম। এই অবস্থায় কী করা যায় আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবো।

বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন আনুষ্ঠানিকভাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের কথা তুলে ধরবেন। একইসঙ্গে সরকারের এই সিদ্ধান্ত পরবর্তী করণীয় কী হবে, তা নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে কথা বলবেন। তবে, তা প্রচার হবে অনলাইনে। বিএনপির দলীয় অফিসিয়াল ফেসবুকে তা প্রচার হবে বলে জানান তিনি।

Print Friendly, PDF & Email

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 Checkpost Media
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!