শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ১১:৫৬ অপরাহ্ন

সৈয়দপুরে রেলওয়ের পূর্ত কর্মকর্তারই অবৈধ বসবাস” মোটা অংকের রাজস্ব ফাঁকি!

সৈয়দপুরে রেলওয়ের পূর্ত কর্মকর্তারই অবৈধ বসবাস” মোটা অংকের রাজস্ব ফাঁকি!

শাহজাহান আলী মনন, নীলফামারী:

নীলফামারীর সৈয়দপুরে বাংলাদেশ রেলওয়ের কোয়াটার-বাংলোসহ স্থাবর সম্পত্তি রক্ষনাবেক্ষনের দায়িত্বে থাকা উর্ধ¦তন উপ-সহকারী প্রকৌশলী/পূর্ত কর্মকর্তা নিজেই বসবাস করছেন অবৈধভাবে। দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তার জন্য নির্দিষ্ট বাংলো চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীর নামে বরাদ্দ নিয়ে সেখানে থাকছেন পূর্ত কর্মকর্তা। এর ফলে চাকুরীবিধি অনুযায়ী মূল বেতনের ৪৫ ভাগ বাসাভাড়া বাবদ যে পরিমান টাকা কর্তন করা হতো তা কর্তন করা হচ্ছেনা তার বেতন থেকে। সে টাকা পুরোটাই ভোগ করছেন আর ভাড়া বাবদ নাম মাত্র টাকা প্রদান করছেন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীর বেতন হিসেবে। এতে প্রতিমাসে প্রায় ৮ হাজার টাকা কম বাসা ভাড়া পাচ্ছে রেলওয়ে তথা সরকার। এভাবে বছরের পর বছর ধরে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে চলেছেন তিনি।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, রেলওয়ে শহর সৈয়দপুরের প্রাণ কেন্দ্র রেলওয়ে পুলিশ ক্লাব সংলগ্ন বাংলো নং-ই-৩১ মূলতঃ রেলওয়েতে কর্মরত দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তাদের জন্য নির্দিষ্ট। বিশেষ করে প্রকৌশলী হিসেবে যারা নিয়োগপ্রাপ্ত। এ বাংলোটি দ্বিতীয় শ্রেণীর কোন কর্মকর্তা নিজ নামে বরাদ্দ নিলে তার বেতন কাঠামো অনুযায়ী মূল বেতনের ৪৫% হারে প্রায় ১৩ হাজার ৬০৪ টাকা কর্তন করার কথা। কিন্তু বাংলোটি নিয়ম বহির্ভূতভাবে আইওডাবøু অফিসের একজন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী নিরাপত্তা প্রহরী মোঃ শামীম আকতার এর নামে বরাদ্দ দেখানো হয়েছে। কিন্তু সেখানে বসবাস করছেন একই অফিসের প্রধান উর্ধতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী/পূর্ত  মোঃ তহিদুল ইসলাম।

এর ফলে নিরাপত্তা প্রহরী শামীম আকতারের বেতন কাঠামো অনুযায়ী ভাড়া বাবদ মাত্র ৬ হাজার ৪৮০ টাকা কর্তন করা হচ্ছে। এতে তহিদুল ইসলাম প্রতিমাসে প্রায় ৮ হাজার টাকা কর্তন থেকে বেচে যাচ্ছেন। অথচ তার নামে বরাদ্দ হলে রেলওয়ে বা সরকার পুরো ১৩ হাজার ৬০৪ টাকাই পেতো। এ পরিমান টাকা ফাঁকি দেওয়ার জন্যই  তার অধঃস্তন কর্মচারীর নামে অবৈধভাবে বাংলো বরাদ্দ নিয়ে বসবাস করছেন। যা সম্পূর্ণভাবে আইনের পরিপন্থি ও দূর্ণীতি। এভাবে তিনি অংসখ্য বাংলো ও কোয়াটার নিম্ন শ্রেনীর কর্মচারীর নামে বরাদ্দ নিয়ে উচ্চ বেতন ভাতার কর্মচারী ও কমকর্তাদের বসবাসের সুযোগ করে দিয়েছেন এবং বিনিময়ে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ব্যাপারে নিরাপত্তা প্রহরী মোঃ শামীম আকতারের সাথে কথা হলে তিনি জানান, বাংলো আমার নামে বরাদ্দ আছে। কিন্তু সেখানে আমার উর্ধ্বতন কর্মকর্তা  বসবাস করছেন। কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমেই এমনটা করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে  মোঃ তহিদুল ইসলাম এর মন্তব্য জানার জন্য ১২ ফেব্রুয়ারী বিকাল ৪টা ২৪ মিনিটে তার মুঠোফোন নম্বর ০১৭১২৮৫৪৯৭৮ এ বার বার যোগাযোগ করা হলেও তিনি রিসিভ না করায় তার মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
সৈয়দপুর রেলওয়ের সহকারী প্রকৌশলী/সেতু মোঃ আহসান উদ্দিনের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, ফাইল দেখে বিষয়টি নিশ্চিত হতে হবে। তারপর এ ব্যাপারে যা করনীয় তা করা হবে।

 

Print Friendly, PDF & Email

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 Checkpost Media
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!