মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ০৮:৩৫ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম:
বিশ্বের শীর্ষ কথিত ভাষার তালিকায় সিলেটের আঞ্চলিক ভাষা, নেই নোয়াখাইল্লা ভাষা শায়েস্তাগঞ্জ প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সমুজ আলীর ”বিক্ষুব্ধ বিলাপ”কবিতার বই এখন বাজারে শাহজাহান খানের উপর মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে শায়েস্তাগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা মৌলভীবাজারে বৈদ্যুতিক তার যেন মরণফাঁদ,উদাসীন কর্তৃপক্ষ মাধবপুর উপজেলায় বাহাদুর হত্যা মামলায় আসামী ৮ জন বসবাসে দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে ব্যয়বহুল বাংলাদেশ ৩ সংসদীয় আসনে উপনির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর নাম ঘোষণা লুটপাটের প্রতিবাদে বাংলাদেশ ব্যাংক ঘেরাও করার ঘোষণা মাহফিলের পর আটক হলেন ইসলামি বক্তা আব্দুল্লাহ্ আল আমিন সৈয়দপুরে সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের স্বেচ্ছাচারিতায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে সাইপাই উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ
মাধবপুরে আর চোখে পড়ে না বকের সারি

মাধবপুরে আর চোখে পড়ে না বকের সারি

মাধবপুরে আর চোখে পড়ে না বকের সারি

মোঃ জহিরুল ইসলাম (লিটন পাঠান), মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:: পল্লী কবি জসীম উদ্দিনের “বৃষ্টির ছড়া” কবিতার পংক্তি ‘বকের সারি কোথায় রে’ লুকিয়ে গেল বাঁশ বনে।

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় নদীনালা খাল বিল ও অনেক বড় বড় দিঘি রয়েছে। এসব থাকা স্বত্ত্বেও আগের মতো বক ও বকের সারি আর চোখে পড়ে না। এক যুগ পূর্বেও বকের বিচরণ ছিল ব্যাপক হারে। শিকারীরা বিভিন্ন পন্থায় বক শিকার করে তা আজ বিলুপ্তির পথে। বক শিকারীরা বাঁশের চিপ দিয়ে গোলাকৃতির খাঁচা বানায়। তা আড়াই ফুট প্রস্থ ও সাড়ে ৩ ফুট উচ্চতায়। ওই খাঁচার বাহিরের দিকে বেতের পাতা স্তরে স্তরে সাজিয়ে দেওয়া হয়। উপরের দিকে দিয়ে বেত পাতা খাড়া ভাবে লাগিয়ে শিকারী এ ফাঁদের ভিতরে ঢুকে পালিত বকের সাহায্যে কৌশলে বক শিকার করে। আবার অনেকে নাইলন সুতায় গিট দিয়ে সুতার মাথা কাটির সাথে বেধে ক্ষেতের আইলে শক্তভাবে বসিয়ে ফাঁদ পাতে।

অনেকে সন্ধ্যায় বক যখন বাসায় ফিরে তখন মার্বেল পাথর অথবা এটেঁল মাটির গোলাকৃতির গুলি বানিয়ে বাঁশের গোলাইনের সাহায্যে গুলি করে শিকার করে বক। আবার অনেক সাহেব লোক এক নলা বন্দুক ও দুই নলা বন্দুক দিয়ে বিলের পাড়ে থাকা বকের ঝাঁকের উপর গুলি করে বক শিকার করে। অনেকে কলের উপর মাছ লাগিয়ে ফাঁদ পাতে। অনেকে বর্শির মধ্যে মাছ লাগিয়ে ফাঁদ পাতে বড় দিঘিতে। অনেক বক শিকারী বক শিকার করে জীবিকা নিবার্হের জন্য বাজারে নিয়ে আসে বক। মুখরোচকরা তা কিনে নিয়ে যায়। অনেক ছেলেরা তা কিনে পালন করে। বকের প্রধান খাদ্য মাছ। বর্তমানে নদীনালা খাল বিল শুকিয়ে যাওয়ায় বকের খাদ্যের সংকটে বকের প্রজনন কমে গেছে।

বকের খোঁজে উপজেলার বুল্লা বিল, মাধবপুর বিল, বৈচা বিল, বাকসাইর বিল প্রভৃতি। শুধুমাত্র বুল্লা বিল, বাকসাইর বিলে কিছুকিছু বক চোখে পড়লেও অন্যবিলে পানি শূন্য থাকায় বক চোখে পড়েনি। মুরাদপুর গ্রামের ওয়াহাব মিয়া জানান, পানি শূন্যতায় মাছের আকাল ও বন উজার হওয়ায় বকের বাসস্থান নষ্ট ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে ছোট ছোট ডোবা, নালা, জলাশয় সেচে মাছ ধরার কারণে আজ বক শুন্য হতে চলেছে। পরিবেশবিদ ও এলাকার সচেতন মহল মনে করেন নদী উজানে পানি শূন্য নদী ও বন জঙ্গল উজারের কারণে বাসস্থান ধ্বংস ও বক শিকারের কারণে বক আজ আমাদের পরিবেশ থেকে হারাতে চলেছে। বক প্রজাতি রক্ষার্থে জনগণের সচেতনতা একান্ত দরকার।

Print Friendly, PDF & Email

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 Checkpost Media
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!