শনিবার, ১৭ অগাস্ট ২০১৯, ০৭:৪৪ অপরাহ্ন

নোটিশ:
দৈনিক চেকপোস্ট পত্রিকায় সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন। ছবিসহ জীবন বৃত্তান্ত ই-মেইল করুন-checkpost2015@gmail.com এ। প্রয়োজনে-০১৯৩১-৪৬১৩৬৪ নম্বরে কল করুন।
পার্কের মালি থেকে কোটি টাকার মালিক!

পার্কের মালি থেকে কোটি টাকার মালিক!

চেকপোস্ট ডেস্ক:: নাম তার সেলিম মোল্লা। একসময় ছিলেন পার্কের মালি। পদোন্নতি পেয়ে হন গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অফিস সহকারি। এরপর আঙ্গুল ফুলে হয়েছেন কলাগাছ। দুর্নীতি করে কোটি-কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন।

সম্প্রতি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল যমুনা টেলিভিশনের অনুসন্ধানমূলক অনুষ্ঠান ইনভেস্টিগেশন ৩৬০ ডিগ্রি অনুষ্ঠানের একটি পর্বে এমন অবাক করা তথ্য উঠে এসেছে।

ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ১৯৮৪ সালে রমনা পার্কের মালি হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন সেলিম মোল্লা। তার হাজিরা ছিল ১০ টাকা। তবে পদোন্নতি পেয়ে তিনি এখন গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অফিস সহকারি।

সেলিম মোল্লার এক প্রতিবেশি বলেন, তার লেখাপড়া ছিল ক্লাস সেভেন পর্যন্ত। এরপর আর লেখাপড়া হয় নি। মানিকগঞ্জের ঝিটকা আনন্দমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ে একটি সার্টিফিকেট নেওয়ার জন্য ঘুরেছে, কিন্তু দেয় নি। সেই বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সভাপতি এখন সেলিম মোল্লা।

১০ টাকা হাজিরা বেতনের সেলিম মোল্লা এখন কোটি টাকার মালিক! অবাক হয়ে যান আশেপাশের লোকজনরাও। কি এমন আলাদিনের চেরাগ পেয়েছেন তিনি, যা দিয়ে রাতারাতি কোটি-কোটি টাকার মালিক বনে গেলেন?

এত টাকার মালিক হলেন কিভাবে-এমন প্রশ্নের জবাবে সেলিম মোল্লা বলেন, বাংলাদেশের সবাই জানে, অফিস সহকারী পদে চাকরি করে সচিবালয়ে ফাইল সই করানোর কোনো ক্ষমতা নেই। তাই টাকা কামানোরও কোন সুযোগ নেই।

তবে ইনভেস্টিগেশন ৩৬০ ডিগ্রির অনুসন্ধানের সূত্র জানায়, সেলিম মোল্লার নিজের এবং তার স্ত্রীর নামে চার কোটি টাকা মূল্যের বিলাসবহুল একটি বাড়ি রয়েছে। আরও রয়েছে, ৮ কোটি টাকা মূল্যের বহুতল বাণিজ্যিক ভবন, একটি মার্কেট, দুটি গাড়ি, একটি ট্রাক, তিনটি মোটরসাইকেল।

এছাড়া রাজধানীর শাহজাদপুরে তার একটি ফ্ল্যাট এবং খিলগাঁওয়ে আরও দুটি বাড়ি আছে সেলিম মোল্লার। তবে এর সবকিছুই অস্বীকার করে বসলেন সেলিম মোল্লা।

তিনি বলেন, আমার ঢাকায় কোন বাড়িঘর নেই। তবে নির্দিষ্ট নাম্বারের দুটি গাড়ির কথা বলতেই তিনি সুর পাল্টালেন। বললেন, আমার নামে একটি নোয়া গাড়ি আছে। ওটা ভাড়ায় চলে। আর পরিবারের নামে একটা গাড়ি আছে।

এরপর বাড়ি থাকার কথা স্বীকার করলেন তিনি। বললেন, এটা হল আমার স্ত্রীর বাপের বাড়ির সম্পত্তি। প্রশ্ন ছিল, এত সম্পদ এলো কোথা থেকে? জবাবে সেলিম মোল্লার দাবি, আমাদের আগে থেকেই টাকা পয়সা ছিল।

কিন্তু সেলিম মোল্লার এক প্রতিবেশী বলেন, ঐতিহ্যবাহী কোন পরিবার ছিল না সেলিম মোল্লার। খুবই দরিদ্র পরিবারের সন্তান সে।

Print Friendly, PDF & Email

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 Checkpost Media
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!