সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০২:১৮ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম:
এমসি কলেজে তরুণী গণধর্ষণ, রবিউল-রনি হবিগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার মৌলভীবাজারে বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা মাধবপুরে ফেনসিডিল ও গাঁজাসহ ব্যবসায়ী আটক নীলফামারীতে ৩ লাখ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে অতি বর্ষনে পানিবন্দি সৈয়দপুরবাসী রাজনগরে্র ফতেপুরে ইউএনও’র নির্দেশে বন্ধ হল অবৈধ চক্ষু ক্যাম্প (ভিডিও সহ) এমসি কলেজে ধর্ষণের ঘটনায় প্রধান দুই আসামি গ্রেফতার মাধবপুরে বাস-পিকআপ ভ্যান মুখোমুখি সংর্ঘষে নিহত-১ মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ উপনির্বাচনে দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ পাবনা ৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনে উপ-নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী নুরুজ্জামান বিশ্বাস বিজয়ী
ঐক্যফ্রন্ট গড়ে বন্ধুদের হারালেন ড. কামাল হোসেন

ঐক্যফ্রন্ট গড়ে বন্ধুদের হারালেন ড. কামাল হোসেন

নিউজ ডেস্ক: বিএনপিকে নিয়ে গঠিত আনকোরা নতুন জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক হয়েছেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। এর মধ্যে দিয়ে বিএনপিসহ জোটভুক্ত দলগুলোর একরকম অভিভাবকত্বই নিলেন তিনি। কিন্তু এর মধ্যে দিয়েই আবার দীর্ঘদিনের পুরোনো ও বিশ্বস্ত বন্ধুদের হারালেন ড. কামাল। অনেক বন্ধুরই প্রশ্ন, ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক হয়ে, বিএনপি সঙ্গে ঐক্য গড়ে কী পেলেন ড. কামাল যে তাঁদের মতো পরীক্ষিত বন্ধুদেরও ত্যাগ করতে দ্বিধা করলেন না।

ড. কামালের সবচেয়ে নিকটতম বন্ধু ছিলেন ইমিরেটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান। আওয়ামী ঘরানার বুদ্ধিজীবী হলেও তাঁর সঙ্গে ড. কামাল হোসেনের সখ্যতা দীর্ঘদিনের। ১৯৭২ এর সংবিধান প্রণয়নের সময় ড. কামাল ছিলেন এ সংক্রান্ত কমিটির প্রধান। ইংরেজিতে লেখা ওই সংবিধানের বাংলা অনুবাদ করেছিলেন ড. আনিসুজ্জামান। দুজনের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের মধুর স্মৃতি। এমনকি আওয়ামী লীগ থেকে সরে গিয়ে ড. কামাল যখন গণফোরাম গঠন করেন, তখন আওয়ামী পন্থী বুদ্ধিজীবী হয়েও সংগঠনটির সভায় উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন ড. আনিসুজ্জামান। দুজনার পারিবারিক অনুষ্ঠানগুলোতেও দুজনের উপস্থিতি ছিল সবসময়ই। জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া গঠনের সময়ই ড. আনিসুজ্জামান বিষয়টিকে ভালোভাবে নেননি। ড. কামাল হোসেনকে টেলিফোনও করেছিলেন ড. আনিসুজ্জামান। বলেছিলেন, বিএনপি কোনো ভাবেই এখন আর সেক্যুলার শক্তি না। স্বাধীনতা বিরোধীদের সঙ্গে তাদের প্রত্যক্ষ যোগাযোগ। এরপরও কেন আপনি তাঁদের সঙ্গে জোটে যাচ্ছেন? এরপরও ঐক্যফ্রন্টের নেতৃত্ব নেওয়ার মধ্যে দিয়েই ড. আনিসুজ্জামানের সঙ্গে দীর্ঘ ৪৭ বছরের বন্ধুত্বের ইতি টানলেন ড. কামাল।

শুধু বন্ধুই নন ড. কামাল হোসেনের একজন নিকটাত্বীয়ও অধ্যাপক রেহমান সোবহান। বাঙালির মুক্তির সনদ ছয় দফার অন্যতম প্রণয়নকারী অধ্যাপক সোবহান স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর সঙ্গে ড. কামালের বন্ধুত্বের সম্পর্কও বেশ পুরোনো। রেহমান সোবহানের প্রয়াত স্ত্রী এবং ড. কামাল হোসেনের স্ত্রী আপন বোন। সেই সূত্রে দুজনের পারিবারিক সম্পর্কও ছিল দৃঢ়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে দুজন একই সঙ্গে অংশগ্রহণ করেছেন। অধ্যাপক রেহমান সোবহান ও ড. কামাল হোসেনের যৌথ গবেষণা পত্র আছে অন্তত ৮ টি। এসব গবেষণাপত্রে বৈষম্য ও সেক্যুলার সমাজের সঙ্গে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সম্পর্ক নিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। বিএনপিকে সঙ্গে নিয়ে জোট গঠন করায় সেই রেহমান সোবহানও ত্যাগ করলেন কামাল হোসেনকে। অধ্যাপক রেহমান সোবহানের মতে, নবগঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে প্রত্যক্ষ ও পারোক্ষ ভাবে যুক্ত আছে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি। বিএনপি এখন আর সেক্যুলার ফোর্স হিসেবে নেই বলে মনে করেন অধ্যাপক সোবহান। বরং তাঁর মতে, ধর্মান্ধ মৌলবাদী শক্তি আশ্রিত একটি দল বিএনপি।

ড. কামাল হোসেনের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও বন্ধু ছিলেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম। ড. কামালকে সবাই ত্যাগ করলেও তিনি কখনোই ছাড়েননি। বরং ড. কামালের সবসময়ই প্রশংসা করে বেড়াতেন বঙ্গবীর। বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বহু লেখা লেখেছেন, যেখানে প্রশংসা করেছেন ড. কামালের। এমনকি ড. কামাল আওয়ামী লীগ ছেড়ে যাওয়ার তা নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের সঙ্গেই বাহাসে জড়িয়েছেন কাদের সিদ্দিকী। ড. কামাল হোসেনের মূল্যায়ন হয় না বলে বরাবরই সোচ্চার হয়েছেন তিনি। ড. কামালের দলের সব অনুষ্ঠানেই আগে দেখা যেত কাদের সিদ্দিকীকে। কিন্তু ঐক্য প্রক্রিয়া বা ঐক্যফ্রন্টে কখনোই দেখা মেলেনি বঙ্গবীরকে। ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে, যেভাবে ড. কামাল ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেছেন, তা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেনি কাদের সিদ্দিকী। ঐক্যফ্রন্টের মতো এমন জোটের আহ্বায়ক হওয়ার পরও তাই তাঁর বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর কোনো অভিনন্দন পাননি ড. কামাল।

ড. কামাল হোসেনের দীর্ঘদিনের আইনি সহযোদ্ধা ছিলেন ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম। শুধু আইনি বিষয়েই নয় রাজনৈতিক নৈকট্যও ছিল দুজনার। আওয়ামী লীগে থাকাকালে একসময় দুজনই কোণঠাসা হয়ে পড়েন। তখন দুজনই কাছাকাছি থেকে গণতন্ত্র, সুশাসন ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে আওয়ামী লীগেই সোচ্চার হন। গণতন্ত্র, সেক্যুলারিজম ও সুশাসনের জন্য অনেক আইনি লড়াইয়ের একসঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম ও ড. কামাল। অষ্টম সংশোধনী মামলায় দুজনে একসঙ্গে আইনি লড়াই করেন। রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিলের এখনো যে রিটটি এখনো আপিল বিভাগে ‘পেনডিং’ আছে সেই মামলারও অন্যতম আইনজীবী ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম। পঞ্চম সংশোধনী বাতিলের মামলায় ড. কামাল হোসেন ও ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু ড. কামালের ঐক্যফ্রন্টের নেতা হওয়ার বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম। এখন তাঁদেরও সম্পর্কের ইতি ঘটল।

এতদিনের পুরোনো সব বন্ধুদের ছেড়ে ড. কামাল হোসেন যখন ঐক্যফ্রন্ট গঠন করলেন তখন রাজনৈতিক মহলের অনেকের প্রশ্ন, এর মধ্যে কী পেলেন ড. কামাল? কী পাওয়ার আশায় ড. কামাল বিসর্জন দিনের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধুদের।

Print Friendly, PDF & Email

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 Checkpost Media
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!