রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩:৪৭ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম:
পাবনা ৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনে উপ-নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী নুরুজ্জামান বিশ্বাস বিজয়ী মাধবপুরে শারদীয় দুর্গা প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত মৃৎ শিল্পীরা সৈয়দপুরে উপজেলা সভাপতির বহিস্ককারের দাবীতে স্বেচ্ছাসেবক লীগের মানববন্ধন জুড়িতে এক ব্যবসায়ীর দুই লাখ টাকা ছিনতাই সৈয়দপুরে পশু খাদ্যের চরম সংকট এক সপ্তাহেই খড়ের দাম তিনগুন বৃদ্ধি সংবাদ প্রকাশ করায় হবিগঞ্জে এশিয়ান টিভির সাংবাদিক এমএ আজিজ সেলিমকে হত্যার হুমকি: থানায় জিডি সৈয়দপুরে বজ্রপাতে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী নিহত বড়লেখায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই মাদক ব্যবসায়ীকে কারাদণ্ড বড়লেখায় তালামীযের কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা প্রদান মুফতি আলা উদ্দীন জিহাদীর মুক্তির দাবিতে হবিগঞ্জে আহলে সুন্নাতের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ
নিষিদ্ধ হলো সব ধরনের এনার্জি ড্রিংকস আমদানি

নিষিদ্ধ হলো সব ধরনের এনার্জি ড্রিংকস আমদানি

নিউজ ডেস্ক:  সব ধরনের এনার্জি ড্রিংকসের আমদানি নিষিদ্ধ করা হলো। তবে কেউ যদি কার্বোনেটেড বেভারেজ আমদানি করতে চায় সে ক্ষেত্রে আবশ্যিকভাবে বিএসটিআইয়ের মান অনুসরণ করতে হবে। এর বাইরে গিয়ে এনার্জি ড্রিংকস আমদানি করা যাবে না।

গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) দেশের সব কাস্টম হাউসকে চিঠি দিয়ে এমন নির্দেশনার কথা জানিয়েছে। নির্দেশনাটি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়, বিএসটিআই ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকেও অবগত করা হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিএসটিআই নির্ধারিত মানবহির্ভূত কোনো কার্বোনেটেড বেভারেজ বিশেষত যেসব কার্বোনেটেড বেভারেজে ক্যাফেইনের মাত্রা ১৪৫ মি.গ্রা/লি.-এর বেশি সেগুলো আমদানি ও বিক্রি করা যাবে না। এ ছাড়া কার্বোনেটেড বেভারেজের মোড়কে এনার্জি ড্রিংকস ঘোষণা দেওয়া বিভ্রান্তিকর বিধায় লেবেলে এনার্জি ড্রিংকস মুদ্রিত কোনো কার্বোনেটেড বেভারেজ আমদানি বন্ধ করার ব্যাপারেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

এ নির্দেশনার ফলে এখন থেকে কোনো ধরনের এনার্জি ড্রিংকস দেশে প্রবেশ করতে পারবে না। কোনো কার্বোনেটেড বেভারেজ আমদানি করতে হলেও সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া দেশে প্রবেশ করতে পারবে না। এতে করে কার্বোনেটেড বেভারেজের ক্ষেত্রে মানহীন ক্ষতিকর পণ্য দেশে বিক্রি বন্ধ হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য (অতিরিক্ত সচিব) মো. মাহবুব কবির বলেন, ‘নির্দেশনা প্রয়োজনীয় সব জায়গায় চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে। চিঠি পাওয়ার পর থেকেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।’

 

তিনি বলেন, ‘এর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে একটি বড় কাজ হবে। আর কেউ এনার্জি ড্রিংকস মিথ্যা ঘোষণায় আনতে পারবে না। সবই পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দেশে ঢুকবে। কেউ কার্বোনেটেড বেভারেজের ঘোষণা দিয়ে এনার্জি ড্রিংকস আনতে চাইলে ধরা পড়ে যাবে।’

চিঠির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ‘কার্বোনেটেড বেভারেজেস/ ড্রিংকসের লেবেলে বা মোড়কে এনার্জি ড্রিংকস ঘোষণা থাকা বা ক্যাফেইনের মাত্রা ১৪৫ মি.গ্রা/লি.-এর অধিক এমন কার্বোনেটেড বেভারেজ ড্রিংকস আমদানি এবং বন্দর থেকে খালাস বন্ধের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হলো।’

জানা গেছে, বাংলাদেশে এনার্জি ড্রিংকস নামে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ আমদানি হয় রেড বুল, যা বছরে প্রায় ৮০-৯০ হাজার মেট্রিক টন। এই এনার্জি ড্রিংকসের মোড়কে ঘোষণা দেওয়া আছে প্রতি লিটারে ৩২০ মি.গ্রা/লি. ক্যাফেইন রয়েছে এবং এটি একটি উচ্চ ক্যাফেইনযুক্ত এনার্জি ড্রিংকস। আমদানি বন্ধের কারণে এ রেড বুল আমদানি নিষিদ্ধ হয়ে গেল। তবে যেসব আমদানি করা এনার্জি ড্রিংকস বাজারে রয়ে গেছে সেগুলোর বিক্রির ওপর এখনো কোনো নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেনি নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।

সম্প্রতি এনার্জি ড্রিংকসের জাতীয় মান ঘোষণা করা হবে না বলে বিএসটিআইয়ের একটি শাখা কমিটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।  যদিও এর আগে থেকেই দেশি কম্পানিগুলো কার্বোনেটেড বেভারেজের নামে এনার্জি ড্রিংকস উৎপাদন করে বাজারজাত করে আসছিল। বিএসটিআইয়ের ওই ঘোষণার পর এখন তারা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। কারণ এনার্জি ড্রিংকসে মূলত ক্যাফেইন থাকে বেশি মাত্রায়। কিন্তু কার্বোনেটেড বেভারেজে এই মাত্রার সীমা দেওয়া হয়েছে ১৪৫ মি.গ্রা/লি.। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ দেশে এসব এনার্জি ড্রিংকস পরীক্ষা করে ক্যাফেইনের মাত্রা পেয়েছে ৩২০-এর আশপাশে। আবার কোনো কোনো নন-ব্র্যান্ডেড এনার্জি ড্রিংকস বাজারে বিক্রি হচ্ছে যেগুলোতে পাওয়া গেছে ভায়াগ্রার উপাদান এবং অ্যালকোহলের উপস্থিতি, যা পুরোপুরি আইনের লঙ্ঘন বলে মনে করে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

এদিকে দেশি যেসব প্রতিষ্ঠান কার্বোনেটেড বেভারেজের লাইসেন্স নিয়ে এনার্জি ড্রিংকস উৎপাদন ও বাজারজাত করছে সেগুলো বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর প্রক্রিয়াটা হবে একটু ভিন্ন। বাজার থেকে নতুন করে নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষা করা হবে। কেউ বিএসটিআই স্ট্যান্ডার্ড মানছে না—এমন তথ্য মিললে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগের বেশ কিছু পরীক্ষায় দেশি এনার্জি ড্রিংকসে (যদিও ঘোষণা করা হচ্ছে কার্বোনেটেড বেভারেজ) ক্যাফেইনের মাত্রা বেশি পাওয়া গেছে। সেগুলো থেকে বেরিয়ে আসার একটা অন্তর্বর্তীকালীন সময় থাকছে কম্পানিগুলোর হাতে।  পরবর্তী সময়ে কোনো প্রতিষ্ঠানের ড্রিংকসে ক্যাফেইনের অতিরিক্ত মাত্রা ব্যবহার করে ধরা পড়লে নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া কোনো কম্পানি যদি বিজ্ঞাপনে এনার্জি ড্রিংকসের প্রচার চালায় তবে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

Print Friendly, PDF & Email

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 Checkpost Media
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!